হার্ট ফেইলরের চিকিৎসায় কার্ডিওট্রফিন ওয়ান?

কার্ডিওট্রফিন ওয়ান একটি সাইটোকাইন। এই কার্ডিওট্রফিন ওয়ান হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন অসুখ যেমনঃ উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ভাল্বের সমস্যা এবং হার্ট ফেইলরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। তাহলে এই সাইটোকাইনটি ভালো নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অটোয়া হার্ট ইন্সটিটিউট এবং কার্লেটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই কার্ডিওট্রফিন ওয়ানের ভালো গুণাবলীর আবিস্কার করেছেন।

বিশেষ করে হার্ট ফেইলরের রোগীদের ক্ষেত্রে কার্ডিওট্রফিন ওয়ানের পজেটিভ ভূমিকা আছে।

হার্ট ফেইলর হলে হৃৎপিণ্ডের বেশীরভাগ কোষ মরে যায় আর তাই শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা লোপ পায়। মৃত কোষ গুলোর অকার্যকর ভূমিকাকে সামাল দিতে জীবিত কোষ গুলো বেশী, বেশী রক্ত পাম্প করতে থাকে এবং এর ফলে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ গুলো বড় হয়ে যায় ও রক্ত প্রবাহের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়।

ল্যাবে ইঁদুরের উপর গবেষনায় দেখা যাচ্ছে, কার্ডিওট্রফিন ওয়ান দিয়ে চিকিৎসার ফলে হৃৎপিণ্ডে নতুন কোষ গড়ে উঠে এবং সেই সাথে নব্য শিরা-উপশিরা ও গড়ে উঠে। কার্ডিওট্রফিন ওয়ানের একটি গুন হচ্ছে এটি পেশীর হাইপারট্রফিক গ্রোথ অথবা অতিবৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করে এবং ইন্টারলিউকাইন-৬ ফ্যামিলির এই সাইটোকাইনটির এই গুণাবলীর জন্যই হার্টের রোগ গুলো হয়। তবে এখন, কার্ডিওট্রফিন ওয়ানের এই গুনাবলীই হার্ট ফেইলরে অকেজো হতে থাকা হৃৎপিণ্ডকে পুরোটা না হলেও, একটি স্বাভাবিক রেঞ্জে কাজ করার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

ডাঃ মেগেনেনি এবং টিমের মতে,  কার্ডিওট্রফিন ওয়ান দিয়ে চিকিৎসার ফলেঃ

১। হৃৎপিণ্ডের কোষ গুলো আরও লম্বা এবং সুস্থ ক্যালিবারের হয় যেটি স্বাভাবিকভাবে পাম্প করতে সহায়তা করে।

২। নতুন পেশীকোষ গঠনের সাথে, সাথে নতুন শিরা উপশিরার জন্ম হয় যেটা রক্ত প্রবাহে সাহায্য করে।

৩।  হৃৎপিণ্ডের বাম দিকে হার্ট অ্যাটাকের জন্য যে কোষ গুলো মারা গিয়ে হার্ট ফেইলর হতে পারে এবং ডান দিকে ফুসফুসে পানি জমে পালমনারি হাইপারটেনশন হয়ে যে হার্ট ফেইলর হয়,  কার্ডিওট্রফিন ওয়ান দুটো দিকেই সামাল দিয়ে হৃৎপিণ্ডের পাম্প করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৪।   কার্ডিওট্রফিন ওয়ানের অ্যাপোপটপিক পাথওয়ে কিংবা কোষ মরে যাবার একটি মেকানিসম ফলো করলে ও সেটি নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা রাখে যা অন্য সাটোকাইন গুলোর থাকে না।

পুরো ব্যাপারটি এখনও গবেষণার মধ্যে আছে তবে এখন পর্যন্ত যা ফলাফল সেটি আশাপ্রদ। এই গবেষণা সফল হলে হার্ট ফেইলরের রোগীদের আরও ভালো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

 

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

Advertisements

ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্ক

কোন রোগী যদি আমাদেরকে বলে তার ডায়াবেটিস আছে তাহলে সাথে, সাথে আমরা জিজ্ঞেস করি তার উচ্চ রক্তচাপ আছে কিনা। প্রতি তিনজন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপ থাকার কথা বলেন। এমন অনেক রোগী আছে যাদের কখনও উচ্চ রক্তচাপের হিস্টোরি পাওয়া যায় না কিন্তু ডায়াবেটিস হবার সাথে, সাথেই উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়।
 
কেন?
 
কোন রোগীর ডায়াবেটিস হলে হাই ব্লাড সুগার তার শরীরের কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম অর্থাৎ রক্তের শিরা-উপশিরাতে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আনেঃ
 
১। হাই ব্লাড সুগার রক্তের শিরার সংকুচিত করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। রক্তের শিরা যদি নিয়ম মাফিক সংকুচিত না হতে পারে তাহলে সেটি স্ফীত হতে থাকবে এবং রক্তের চাপ বাড়িয়ে দেবে।
 
২। হাই ব্লাড সুগার কিডনীর গঠনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এখন কিডনী যদি তার ছাঁকার কাজটি ঠিক মতো না করতে পারে তাহলে কিডনীতে সরবরাহকারী শিরা গুলোর উপর চাপ পড়ে এবং এই শিরা গুলো বিভিন্ন উপশিরার মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গে সরবরাহকারী শিরার সাথে জড়িত। এখন, একটি শিরার উপর চাপ পড়লে বাকি গুলোতে চাপ পড়বে এবং ধীরে, ধীরে উচ্চ রক্তচাপ ডেভেলপ করবে।
 
ডায়াবেটিস হলেই নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করা উচিৎ এবং সেটি অবশ্যই একজন এমবিবিএস ডাক্তার দিয়ে পরিমাপ বাঞ্ছনিয়। কখনও ডিজিটাল মেশিন দিয়ে রক্তচাপ পরিমাপ করা উচিৎ নয় কারন এটাতে রিডিং ভুল আসে।
ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।
 
বিএমডিসির রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদের উপর আস্থা রাখুন।
ধন্যবাদ
ফয়সাল সিজার

মেহেল্লাসা পারভি নামের চিকিৎসক এবং ক্রিকেটার

১৮৪৮ সালে উপমহাদেশের পারসি কমিউনিটি ইউরোপিয়ান ক্লাবের একটু দূরে এসপানালডি ময়দানে নিজদের ক্রিকেট ক্লাব গঠন করে। ক্লাব গঠনটি অনেকটা হুজুগের বশেই হয়েছিলো এবং তাই ইউরোপিয়ান ক্লাবের সাথে মুখোমুখি হবার আগেই তারা হেরে বসে থাকত। কিন্তু ১৮৭৭ সালে তারা যখন ইউরোপিয়ান ক্লাবকে হারায় তখন পারসিরা ক্রিকেটকে আরও বেশী সিরিয়াসলি নিতে শুরু করে।

নয় বছর অপেক্ষার পর, ১৮৮৬ সালে, তারা ইংল্যান্ডে ট্যুর করে। এই ট্যুরটি ছিলো অনেকটা এক্সপেরিমেন্টাল বেসিসে। পারসিরা মোট ২৮টি ম্যাচ খেলে এবং জয় পায় মাত্র একটিতে।

১৮৮৮ সালে তারা আবার ইংল্যান্ডে ট্যুর করে। ফলাফলঃ ৮টি জয়, ১১টি হার এবং ১২টি ড্র। এই অসাধারন ইম্প্রভমেন্টের পেছনে মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন মেহেল্লাসা পাভরি নামের একজন ফাস্ট বোলার। ছয় ফুট উচ্চতার পাভরি পেশায় ছিলেন একজন চিকিৎসক কিন্তু ক্রিকেটের উপর তার ছিলো বেজায় নেশা। তার বলের গতি ছিলো দমকা হাওয়ার ন্যায় এবং স্ট্যাম্প উপরে ফেলতে উনি বেশ পছন্দ করতেন। সেই ট্যুরে পাভরি ১১.৬৬ গড়ে ১৭০ উইকেট পেয়েছিলেন।

পারসিরা ১৮৯০ সালে আবারও ইংল্যান্ড ট্যুর করে। যই এফ ভারননের ইংল্যান্ড দলের খেলা দেখতে ১২০০০ দর্শকের সমাগম হয়েছিলো। সেই দর্শকদের সামনে পাভরি তার পেস এবং কন্ট্রোল দিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডারকে কুপোকাত করে দিয়েছিলেন। উনি ৩৪ রানের খরচায় উইকেট নেন ৭ টি।

১৮৯২ সালের ট্যুরে, পারভির দশ উইকেট, লর্ড হকের ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে ১০৯ রানের এক অবিশ্বাস্য জয় এনে দেয়। পারভি যেন এক জলজ্যান্ত ত্রাসের নাম। উপমহাদেশ থেকে এরকম ভাবে কেউ রাউন্ড দ্যা আরম বোলিং করে তার পেস এবং কন্ট্রোলের জোরে ব্যাটিং অর্ডারকে গুরিয়ে দিতে পারে সেটা অনেকের কাছেই তখন বিশ্বাস করার মতো ছিলো না।

বিশ্ব ক্রিকেটের আকাশে রয়েল কলেজ অফ ফিজিসিয়ান থেকে পাশ করা চিকিৎসক ডাব্লিউ জি গ্রেসে নামক প্রতিভাটি উজ্জ্বল সূর্যের ন্যায় জ্বলজ্বল করছে। সেই উজ্জ্বল সূর্যের ঝলকানিতে আরও একজন চিকিৎসকের ক্রিকেট প্রতিভা ঢাকা পড়ে গেলেও তার প্রতিভা উপমহাদেশে ক্রিকেটের প্রসারে ব্যাপক ভুমিকা পালন করে আসছিলো।

ক্রিকেট খেলাটিতে চিকিৎসকের অবদান অনেক।

অস্বীকার করতে চাইলেও উপায় নেই কারন ক্রিকেটের ইতিহাস মিথের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়নি যে।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

মাত্রাতিরিক্ত রাত জাগার সাথে মানুষের শরীরে ইনফেকশন হওয়ার যোগ সূত্র

images

ইদানিং বাংলাদেশের ছেলে এবং মেয়রা শরীরকে ‘ফিট’ রাখতে জিমে যাচ্ছে। কিন্তু জিমে যাওয়া সত্ত্বেও এই যুগের তরুন এবং তরুণীরা ঘনঘন রোগাক্রান্ত হচ্ছেন। বহির্বিভাগে সুঠামদেহী ছেলেদের ঘনঘন চিকিৎসার জন্য আসতে দেখা যায়।

মূলত ফ্লু, জ্বর, কাশি যেটার কফ হলদে রঙের, সাইনাসের সমস্যা; যাদেরকে সিম্পটোমেটিক চিকিৎসা দিয়ে নাক, কান এবং গলা বিভাগে রেফার করা হয়, কারবাংকেল, সেলুলাইটিস ইত্যাদি চর্ম রোগ নিয়ে আমাদের কাছে আসছেন।

এসব তরুণরা বারবার কেন এই ধরনের ইনফেকশনে আক্রান্ত হচ্ছেন কিংবা সেরে যাওয়া ইনফেকশন গুলো আবার কেন এদেরকে আক্রান্ত করছে?

জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলার অভাব এবং স্বাস্থ্য সম্মত খাবার না খাওয়াটা একটি বড় কারন।

এদের জীবনযাত্রার কথা জিজ্ঞেস করলেই বেশীরভাগ তরুন এবং তরুণীরা আমাকে  মাত্রাতিরিক্ত রাত জাগার অভ্যাসের কথাটি বলেছেন। রাত জাগার কারন হিসেবে অনেকে পড়ালেখার কথাটি আনলেও এই যুগের ছেলেমেয়েরা কেন বেশী রাত জাগে সেটা অনেকেই বুঝতে পারবেন।

মাত্রাতিরিক্ত রাত জাগার সাথে মানুষের শরীরে ইনফেকশন হওয়ার একটি যোগ সূত্র আছে।

আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী সিস্টেমটি একধরনের প্রোটিন তৈরি করে যার নাম সাইটোকাইনস। এই সাইটোকাইনস, ঘুমানোর সময়, আমাদের শরীরকে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা করে। এটার জন্য অবশ্যই ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম খুবই জরুরী।

এখন কেউ যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমিয়ে রাত জেগে থাকে তাহলে আমাদের শরীরে সাইটোকাইনস তৈরি ব্যহত হবে। সাইটোকাইনস তৈরি না হলে স্বাভাবিকভাবে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ইনফেকশন জেঁকে ধরবে।

অহেতুক রাত জাগার অভ্যাসটি শুধু তরুন সমাজ নয় মধ্য বয়স্ক থেকে বয়স্ক মানুষদের জন্য ও ক্ষতিকারক। যারা টিভি চ্যানেল গুলোতে রাত জেগে টকশো এবং গান করছেন তাদেরও ব্যাপারটি মাথায় রাখা উচিৎ।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

বুক ধড়ফড় করলে রক্তের হিমোগ্লোবিন এবং থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষা করার পরামর্শ কেন দেওয়া হয়?

download

বহির্বিভাগে অনেক রোগীই আসেন বুক ধড়ফড়ের কমপ্লেইন নিয়ে। আমরা ইসিজি করানোর সাথে, সাথে রক্তের হিমোগ্লোবিন এবং থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষাটি অ্যাডভাইস করি। বেশীরভাগ রোগী, যাদের অধিকাংশ কম বয়সী মেয়ে এবং বয়স্ক মহিলা, বুক ধড়ফড়ের জন্য হিমোগ্লোবিন এবং থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষাটি করাতে চান না। কেউ এটাকে অতিরিক্ত টেস্ট মনে করেন অথবা চিকিৎসককে কমিশনখোর মনে করেন। কিন্তু একজন চিকিৎসক না বুঝে না জেনে অযথা কোন পরীক্ষা দেন না।

হৃদরোগের অনেক লক্ষনের মধ্যে বুক ধড়ফড় করাও একটি লক্ষন তবে বুক ধড়ফড় করলেই যে কারো হৃদরোগ হয়েছে সর্বক্ষেত্রে সেটা ভাবা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য রোগের কারনেও বুক ধড়ফড় করে থাকে। রক্তের হিমোগ্লোবিন এবং থাইরয়েড হরমোনের সাথে বুক ধড়ফড়ের একটি সম্পর্ক আছে।

রক্তে হিমগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে রক্ত প্রবাহের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যহত হয়। শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত সরবরাহের জন্য হৃৎপিণ্ডকে আরও বেশী, বেশী রক্ত পাম্প করতে হয় এবং সেজন্য হৃৎপিণ্ডের গতি অর্থাৎ হার্ট রেট বেড়ে যায়। এখন হার্ট রেট যদি বেড়ে যায় তাহলে সাভাবিকভাবেই বুক ধড়ফড় করতে থাকবে। তাহলে রক্তের হিমোগ্লোবিন কি দেখা উচিৎ নয়?

কোন রোগীর রক্ত শূন্যতা থাকলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো এই হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা না করে অবহেলা করলে একটি সময়ে রোগীর অ্যানিমিক হার্ট ফেইলর ডেভেলপ করতে পারে।

ওদিকে, আমাদের শরীরের বড় বড় অর্গান গুলোর ওপর থাইরয়েড হরমোনের একটি প্রভাব আছে। এই হরমোন মুলত হার্ট রেট নিয়ন্ত্রন করে থেকে। কোন কারনে রক্তে এই হরমোনের তারতম্য ঘটলে হৃৎপিণ্ডের গতির মাত্রা হয় বেশী কমে না হয় বেড়ে যায়। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে বুক ধড়ফড় শুরু হয় কারন হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়। এই হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রন না করলে কার্ডিয়াক অ্যারেথমিয়া ডেভেলপ করে।

অতঃপর চিকিৎসকের পরামর্শকে বাঁকা চোখে দেখবেন না।

চিকিৎসকেরা যা বলেন সেটা আপনার ভালোর জন্যই বলেন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

এটা কেমন ব্যবহার?

Barisal_Medical_Doctor_Assault

পত্রিকার রিপোর্ট মোতাবেক, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে  বরিশাল মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের   শিশু বর্হিবিভাগে রোগী দেখছিলেন ডা. ফায়জুল হক পনির আহম্মেদ। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্টাফ নার্স এলিজা ও তার স্বামী শাহ্ আলম কোন টিকেট এবং সিরিয়াল ছাড়া তাদের অসুস্থ্য শিশু সন্তানকে নিয়ে ডা. ফায়জুল হক পনির আহমেদ কাছে যায়।

ঐ নার্স ডিউটিরত অবস্থায় ছিলেন না এবং পরনে ইউনিফর্ম ছিলো না। এ সময় চিকিৎসক তার কক্ষে দুজন শিশু রোগী দেখছিলেন। চিকিৎসক পনির তাদের একটু অপেক্ষা করতে এবং টিকেট কেটে পাশের কক্ষের জুনিয়র চিকিৎসককে দিয়ে ফরোয়ার্ডিং করিয়ে আনতে বলেন। এতে তারা ধৈর্য হারিয়ে অন্যান্য রোগীদের সামনে ডা. ফায়জুল হক পনিরের শার্টের কলার ধরে টানা হেঁচড়া করে তাকে মারধর করেন। আশপাশের অন্যান্য কক্ষের চিকিৎসরা গিয়ে ফায়জুল হক পনিরকে উদ্ধার করেন।

আক্রান্ত চিকিৎসক পনিরকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেও লাঞ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বর্হিবিভাগের চিকিৎসক ডা. রেজোয়ানুল আলম।

Barisal

ডা. ফায়জুল হক পনির আহমেদকে মারধরের প্রতিবাদে চিকিৎসা বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বর্হিবিভাগের সকল চিকিৎসকরা। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত স্টাফ নার্স এলিজা বেগম ও তার স্বামী মো. শাহ্ আলম ভূঁইয়াকে আটক করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এত আন্দোলন, মানবন্ধন, কালোব্যাজ ধারন, মার্চ, মাইকিং ইত্যাদি, ইত্যাদি করেও চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না? আর বাংলাদেশে কি একজন চিকিৎসকের সম্মান এতই নিচে নেমে গেছে যে নিজের হাসপাতালের কর্মীর কাছে শারীরিকভাবে হেনস্থা হতে হবে?

আমরা চিকিৎসকরা সিস্টার এবং ব্রাদারদের সাথে মিলেমিশে কাজ করি এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কাছে কৃতজ্ঞ এবং তাদের অনেক সময় অনেক উপকার করে থাকি। আমরা কি তাদের কাছ থেকে এরকম ব্যবহার ডিসারভ করি?

জুনিয়র লেভেলের চিকিৎসকদের একতা দেখে ভালো লেগেছে। তবে এসব একতা বেশী দিন থাকে না কারন কোন নেতা ভেতরে ঢুকে সব একতার বারোটা বাজিয়ে দেয়। কিন্তু নার্স এবং ওয়ার্ড বয়দের আন্দোলন শুরু হলে, এসব নেতা পরোক্ষ ভাবে তাদেরকেই সাপোর্ট দিবেন। কারন একজন চিকিৎসকের চেয়ে আর সবাই নেতাদের অনেক কাছের। এই দলে সিনিয়র প্রফেসর ও আছেন কিন্তু!

একজন জুনিয়র চিকিৎসক একবার আমাকে বলেছিলো সে এই দেশে থাকবে না কারন যতদিন যাবে ততই এই দেশে সম্মানিতদের সম্মান দেবার মতো লোকের অভাব হবে। ছেলেটি ঠিক কথাই বলেছিলো। সবার সম্মান থাকলেও এই দেশে অন্তত চিকিৎসকদের সম্মান নেই।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

এই রোদ, এই বৃষ্টি! শরীরকে ঠিক রাখতে কি করা উচিৎ?

pic9875-700x336এবারের বর্ষা মৌসুম বাংলাদেশের জন্য তেমন আশীর্বাদ স্বরূপ মনে হচ্ছে না। বন্যার সাথেসাথে ঋতু বর্ষা এবার আমাদেরকে রোগবালাই উপহার দিয়েছে যা দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যহত করেছে। সেই সাথে রোদ-বৃষ্টির এই খেলার জন্য আমাদের শরীরকে প্রতিনিয়ত একটি নতুন আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকতে হচ্ছে, যেটি আমার মতে, শরীরকে একটি অযথা স্ট্রেস দেয় এবং শরীর গড়ার কাজের চেয়ে ভাঙ্গার কাজ বেশী হয়। ব্যহত হচ্ছে শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

মানুষের শরীর অনবরত একটি স্ট্রেসের মধ্যে আসলে শরীরের কোষ গুলো ভাঙ্গতে থাকে এবং সেই সাথে যে কোষ গুলো আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে তাদের কাজও সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না আর তাই, অনেকেই নানান ধরনের রোগবালাইয়ের শিকার হচ্ছেন।

এখন শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ঠিক রাখতে কি করা উচিৎ?

আমি মনে করি, এই মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে মাছ, বিশেষ করে শৈল, মাগুর এবং শিং, পর্যাপ্ত পরিমাণে মাংস বিশেষ করে গরুর মাংস এবং শাকসবজি বিশেষ করেঃ লাউ, করলা, পটোল, আলু, লেবু, শশা এবং কাকরল। নানা ধরনের ফল জেমনঃ আমড়া, কামরাঙা, আমলকী, আঙ্গুর, পেয়ারা, কলা ইত্যাদি বেশী পরিমাণে খাওয়া উচিৎ।

শাকসবজিতে ভিটামিন, মিনারেল এবং  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ভাঙ্গা-গড়ার খেলায় যে কোষ গুলো ভেঙ্গে যায় সেগুলো ভাঙ্গা রোধ করে। লেবুতে ভিটামিন সি আছে যা ন্যাচারাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত এবং তাই এই সময়ে লেবুর শরবত বেশ উপকারী।

ফল, বিশেষ করে টক জাতীয় ফল গুলো ভিটামিন সি-এর খুব ভালো একটি উৎস। সেটি ছাড়া ফল শরীরে পটাশিয়ামের ঘটাতি কমায় এবং দেহের কোষের, বিশেষ করে হার্টের কোষের, স্বাভাবিক কাজ করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে।

বর্ষার মৌসুমে এসব সবজি এবং ফল কেনার পর অবশ্যই দু-তিনবার ভালো করে ধুয়ে তারপর রান্না করতে হবে। এতে জীবাণু বা কোনো রাসায়নিক থাকলে তা দূর হবে। মনে রাখতে হবে, এ সময় যা খাবেন তা যেন অবশ্যই পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হয়।

মাছ বিশেষ করে শৈল মাছে অনেক আয়রন আছে যা শরীরের হিমোগ্লবিল তৈরিতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে এবং শরীরের কর্মক্ষমতা সঠিক রাখতে সহয়তা করে। অনেক পূর্বে নানি-দাদি, মা, খালারা অসুখের সময় এমনি, এমনি শৈল মাছের তরকারি খেতে বলতেন না।

মাংস যেমন গরুর মাংসে অনেক পরিমাণে জিংক আছে যা শরীরের কর্মক্ষমতা অনেকাংশে বাড়ায়। তাছাড়া, গরুর মাংসে থাকে লিপিড যা দেহের কোষের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। তবে, যে কোন খাদ্যই পরিমিত পরিমাণে আহার করা উচিৎ। যারা গোমাংস খেতে চান না তারা মাছ এবং শাকসবজির উপর নির্ভর করলেও চলবে।

সেই সাথে, কিছু বদভ্যাস ত্যাগ করা উচিৎ। যেমনঃ ধূমপান, মাত্রাতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহন, কোমল এবং ‘কঠিন’ পানীয়, অতিমাত্রায় রাত জাগা ইত্যাদি বদভ্যাস গুলো শরীরের কোষ গুলোকে আরও বেশী পরিমাণে ধ্বংস করে। এমনিতেই রোদ-বৃষ্টির খেলায় শরীরের কর্মক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যহত হচ্ছে সেই সাথে এসব বদভ্যাস আমাদের কোষ গুলোকে আরও বেশী ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আশা করি এই পোস্ট সবার উপকারে আসবে।

ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

যে কোন সমস্যায় হোমিওপ্যাথির চিকিৎসক থেকে একশহাত দূরে থাকুন।

একজন এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমডি/এমএস, এমআরসিপি/এমআরসিএস পাশ করা  চিকিৎসকের উপর আস্থা রাখুন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সাফল্যঃ আলাদা হলেন তোফা এবং তহুরা

c746d68bbc953ea4292093669fac01e9-597ef6d343173

জন্মের পর থেকে ১০ মাস তোফা ও তহুরা একসঙ্গে বড় হয়েছে। পিঠের কাছ থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত তারা পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। দুজনের পায়খানার রাস্তা একটি। তবে জোড়া লাগা এই যমজের মাথা-হাত-পা আলাদা। তোফা-তহুরা যেভাবে জোড়া লাগানো, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় পাইগোপেগাস। এদেরকে আলাদা করার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

আজকে শিশু সার্জারি বিভাগে এদের সার্জারি সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।  শিশু দুটোর অস্ত্রোপচারে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ১৬ জন সার্জন যুক্ত থাকেন। তাদের আলাদা করার পর দুটো অপারেশন থিয়েটারে দুই দলে ভাগ হয়ে কাজ করেন সার্জনরা। অস্ত্রোপচারে আনুমানিক সময় লেগেছে ছয় ঘণ্টা।  দুই শিশুর স্পাইনাল কর্ড, মেরুদণ্ড, পায়খানার রাস্তা ও প্রস্রাবের রাস্তা আলাদা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই শিশু সুস্থ আছে।

বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে পাইগোপেগাস শিশু আলাদা করার ঘটনা এটি প্রথম। এর আগে অন্যান্য হাসপাতালে তিন জোড়া শিশুকে অস্ত্রোপচার করে আলাদা করা হয়েছিল। তাদের ধরন ছিল আলাদা।

নিঃসন্দেহে, বাংলাদেশের জন্য এই দেশের চিকিৎসকরা একটি বড় সাফল্য বয়ে এনেছেন।

সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসকদের জানাই অভিনন্দন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

বাংলাদেশে ট্রান্সক্যাথেটার অ্যাওরটিক ভাল্ব ইমপ্ল্যান্ট

transfemoral-approachহৃৎপিণ্ডের ভাল্ব গুলো একমুখী দরজার মতো যা এক দিকে খোলে এবং বিপরীত দিকে বন্ধ হয়। এরা হৃৎপিণ্ডের রক্ত চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। ভাল্বে সাধারনত দুই ধরণের অসুস্থতা দেখা যায়ঃ (১) ভাল্ব সরু হওয়ার ফলে সেখান দিয়ে রক্তের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। ২) ভাল্ব রিগারচিটেড করা যেখানে কিছু রক্ত পেছনের দিকে চলে যায় এবং সন্মুখ দিকের রক্তপ্রবাহ কমে যায়।

হৃৎপিণ্ডের ভাল্ব চারটি এবং এই চারটি ভাল্বের মধ্যে মাইট্রাল এবং অ্যাওরটিক ভাল্ব বেশী খারাপ হয়। সবচেয়ে বেশী ভয়ংকর হলো অ্যাওরটিক ভাল্ব ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাওয়া। এই ক্ষেত্রে ভাল্ব রিপ্লেস করতেই হবে। আবার অনেকে আছেন যারা ভাল্ব রিপ্লেস করতে চান না বুক কাটার ভয়ে।

তবে ভালো কথা হলো, বর্তমানে, স্বল্প পরিমান সারজিকাল ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভাল্ব রিপ্লেসমেন্ট করার পদ্ধতি চালু হয়েছে। বেশ কিছুদিন পূর্বে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চীফ কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোমেনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে বরিশালের স্বনামধন্য ডেন্টাল সার্জন অধ্যাপক সাইদুর রহমানের নষ্ট হয়ে যাওয়া অ্যাওরটিক ভাল্বের সফল চিকিৎসা ট্রান্সক্যাথেটার অ্যাওরটিক ভাল্ব ইমপ্ল্যান্টের মাধ্যমে করা হয়েছে।

বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটা খুবই আশাপ্রদ একটি ব্যাপার। এটাতে বুক কাটাকাটির ব্যাপারটি নেই এবং ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজীর ন্যায় একটি ক্যাথেটারের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডের ভাল্বের কাছে যেয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া ভাল্বটি রিপ্লেস করা হয়।

হ্যাঁ, পদ্ধতিটি এখনও ব্যয় সাপেক্ষ তবে আশার কথা হলো এটার মূল্য আস্তে, আস্তে কমতে থাকবে। অন্তত দেশের বাইরে যাওয়ার প্রবনতা অনেক ক্ষেত্রে কমে আসবে।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সাফল্য

বিদেশ থেকে রোগীরা বাংলাদেশে চিকিৎসার জন্য আসছে। যারা একটু পাতলা পায়খানা হলেই দেশপ্রেমের মোহ ত্যাগ করে বিদেশে পাড়ি জমান তাদের জন্য এই খবরটা বিস্ময়করই বটে। বাংলাদেশের মাটিতে যে ভালো চিকিৎসক এবং ঔষধ তৈরি হয় সেটা উনারা মানতে চান না। দেশের সব টাকা বাইরে খরচ কয়রে দেশে এসে দেশপ্রেমের জ্ঞান দান করেন।

জি হ্যাঁ, বাংলাদেশের চিকিতসকদের কাছেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মতো দেশ থেকে রোগীরা আসছেন ক্রনিক হেপাটাইটিস এর চিকিৎসা নিতে! বাংলাদেশি চিকিৎসকের উদ্ভাবিত জীবন রক্ষাকারী যে ঔষধের কারণে ছুটে আসছে বিভিন্ন দেশের রোগীরা! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি (লিভার) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) স্যার ও জাপান প্রবাসী চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর স্যার বাংলাদেশে সফল হেপাটাইটিস চিকিৎসার নেপথ্য কারিগর।

নাসভ্যাক (Novel Nasal Vaccine for Hepatitis B বা NASVAC) বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উদ্ভাবিত প্রথম নিউ ড্রাগ মলিউকিউল যেটি ক্লিনিকাল ট্রায়ালের নানা ধাপ পেরিয়ে শেষ ধাপে আছে। বর্তমানে কিউবাসহ পৃথিবীর আরো কিছু দেশে ইতিমধ্যে বাজারজাত শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের FDA এবং বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন এর অনুমতি নিয়ে নাসভ্যাক এর  ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালিয়ে দেখা গেছে ন্যাসভ্যাক প্রয়োগে ৬ মাসে ৫৯% হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের কারনে ক্রনিক হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগী সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করেছেন।

প্রচলিত স্বীকৃত ওষুধ পেগাইলেটেড ইন্টারফেরন প্রয়োগে আরোগ্য পেয়েছেন ৩৮ শতাংশ রোগী। বর্তমানে ওষুধটি জাপানে মাল্টি সেন্টার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আছে। প্রয়োজনীয় আইন না থাকায় এটি এখনো বাংলাদেশে প্রস্তুত করা যায় নি তবে আগামী ২-১ বছরের মাঝেই এটি বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানেই সাফল্যের গল্পের শেষ নয়! যদি বলি এদেশেই স্টেম সেল থেরাপী দেয়া হচ্ছে! হ্যাঁ, ডা. সপ্নীল ও তার দল  বাংলাদেশেই স্টেম সেল থেরাপীর মাধ্যমে লিভার সিরোসিস বা ফেইলিউর হয়ে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসা শুরু করেছেন।

লিভার সিরোসিস বা ফেইলিউর হওয়া অধিকাংশ রোগী মৃত্যুবরণ করেন এবং এর প্রচলিত চিকিৎসা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট । যাতে খরচ প্রায় ৪০-৫০ লক্ষ টাকা  আর উপযোগী ডোনার পাওয়াও কষ্টসাধ্য। কিন্তু স্টেমসেল পদ্ধতিতে চিকিৎসা খরচ মাত্র ৫০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা। স্টেম সেল ব্যবহারের পদ্ধতিটি নতুন না হলেও ডাঃ স্বপ্নীল ও তার দল নিজস্ব উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে সরাসরি লিভারের আর্টারিতেই স্টেম সেল প্রয়োগ করছেন এবং এ প্রক্রিয়া ৩ জন রোগীর উপর প্রয়োগ করে ইতিমধ্যে সাফল্য  পেয়েছেন।

আর একটি বিষয় জানা দরকার যে, হেপাটাইটিস-বি এর পাশাপাশি হেপাটাটিস-সি ভাইরাসও লিভার নষ্ট হয়ে মারা যাবার অন্যতম কারণ। বহির্বিশ্বে  এই রোগে ব্যবহার্য ওষুধের মূল্য প্রায় ১ লক্ষ ডলার! কিন্তু বাংলাদেশে সেই একই ওষুধ এর মূল্য কত জানেন? মাত্র ১ হাজার ডলার! তৈরি করছে ইনসেপ্টা এবং বিকন। মূল একটিভ মলিকিউল তৈরি করা কোম্পানি বাংলাদেশ ও ভারতে এই ওষুধ তৈরির অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত পেটেন্ট রেস্ট্রিকশন পাওয়ায় এখানে এই ওষুধের দাম ভারতের চেয়ে কম। তাই বহির্বিশ্বের প্রচুর রোগী এই ওষুধ নিতে সরাসরি বাংলাদেশে আসছেন কিংবা অনলাইনে অর্ডার করে নিচ্ছেন।

শুধু লিভার কেন? হৃদরোগ, স্ট্রোক, পক্ষাগাথ গ্রস্থতা, ফুসফুসের সমস্যা, সংক্রামক ব্যাধি, আন্ত্রিক সমস্যা, সার্জারি এবং গাইনিতে আমাদের দেশের চিকিৎসকদের সাফল্য অনেক। একটা দেশের গড় আয়ু এমনি এমনি বাড়ে না।

আপানদের গালি, মারধর, মামলা-হামলা এবং মিডিয়ার মিথ্যা প্রপাগান্ডাকে উপেক্ষা করে এই বাংলাদেশের চিকিৎসকরা যা করছেন সেটা প্রশংসার দাবিদার। দেশকে সুস্থ রাখতে এই দেশের চিকিৎসকদের অবদান অনেক। দেশপ্রেম থাকলে এই দেশে চিকিৎসা নিন। দেশের টাকা দেশে রাখুন।

বিঃদ্রঃ তথ্য গুলো স্বীকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে নেওয়া।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার