এটা কেমন ব্যবহার?

Barisal_Medical_Doctor_Assault

পত্রিকার রিপোর্ট মোতাবেক, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে  বরিশাল মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের   শিশু বর্হিবিভাগে রোগী দেখছিলেন ডা. ফায়জুল হক পনির আহম্মেদ। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্টাফ নার্স এলিজা ও তার স্বামী শাহ্ আলম কোন টিকেট এবং সিরিয়াল ছাড়া তাদের অসুস্থ্য শিশু সন্তানকে নিয়ে ডা. ফায়জুল হক পনির আহমেদ কাছে যায়।

ঐ নার্স ডিউটিরত অবস্থায় ছিলেন না এবং পরনে ইউনিফর্ম ছিলো না। এ সময় চিকিৎসক তার কক্ষে দুজন শিশু রোগী দেখছিলেন। চিকিৎসক পনির তাদের একটু অপেক্ষা করতে এবং টিকেট কেটে পাশের কক্ষের জুনিয়র চিকিৎসককে দিয়ে ফরোয়ার্ডিং করিয়ে আনতে বলেন। এতে তারা ধৈর্য হারিয়ে অন্যান্য রোগীদের সামনে ডা. ফায়জুল হক পনিরের শার্টের কলার ধরে টানা হেঁচড়া করে তাকে মারধর করেন। আশপাশের অন্যান্য কক্ষের চিকিৎসরা গিয়ে ফায়জুল হক পনিরকে উদ্ধার করেন।

আক্রান্ত চিকিৎসক পনিরকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেও লাঞ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বর্হিবিভাগের চিকিৎসক ডা. রেজোয়ানুল আলম।

Barisal

ডা. ফায়জুল হক পনির আহমেদকে মারধরের প্রতিবাদে চিকিৎসা বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বর্হিবিভাগের সকল চিকিৎসকরা। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত স্টাফ নার্স এলিজা বেগম ও তার স্বামী মো. শাহ্ আলম ভূঁইয়াকে আটক করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এত আন্দোলন, মানবন্ধন, কালোব্যাজ ধারন, মার্চ, মাইকিং ইত্যাদি, ইত্যাদি করেও চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না? আর বাংলাদেশে কি একজন চিকিৎসকের সম্মান এতই নিচে নেমে গেছে যে নিজের হাসপাতালের কর্মীর কাছে শারীরিকভাবে হেনস্থা হতে হবে?

আমরা চিকিৎসকরা সিস্টার এবং ব্রাদারদের সাথে মিলেমিশে কাজ করি এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কাছে কৃতজ্ঞ এবং তাদের অনেক সময় অনেক উপকার করে থাকি। আমরা কি তাদের কাছ থেকে এরকম ব্যবহার ডিসারভ করি?

জুনিয়র লেভেলের চিকিৎসকদের একতা দেখে ভালো লেগেছে। তবে এসব একতা বেশী দিন থাকে না কারন কোন নেতা ভেতরে ঢুকে সব একতার বারোটা বাজিয়ে দেয়। কিন্তু নার্স এবং ওয়ার্ড বয়দের আন্দোলন শুরু হলে, এসব নেতা পরোক্ষ ভাবে তাদেরকেই সাপোর্ট দিবেন। কারন একজন চিকিৎসকের চেয়ে আর সবাই নেতাদের অনেক কাছের। এই দলে সিনিয়র প্রফেসর ও আছেন কিন্তু!

একজন জুনিয়র চিকিৎসক একবার আমাকে বলেছিলো সে এই দেশে থাকবে না কারন যতদিন যাবে ততই এই দেশে সম্মানিতদের সম্মান দেবার মতো লোকের অভাব হবে। ছেলেটি ঠিক কথাই বলেছিলো। সবার সম্মান থাকলেও এই দেশে অন্তত চিকিৎসকদের সম্মান নেই।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

এই রোদ, এই বৃষ্টি! শরীরকে ঠিক রাখতে কি করা উচিৎ?

pic9875-700x336এবারের বর্ষা মৌসুম বাংলাদেশের জন্য তেমন আশীর্বাদ স্বরূপ মনে হচ্ছে না। বন্যার সাথেসাথে ঋতু বর্ষা এবার আমাদেরকে রোগবালাই উপহার দিয়েছে যা দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যহত করেছে। সেই সাথে রোদ-বৃষ্টির এই খেলার জন্য আমাদের শরীরকে প্রতিনিয়ত একটি নতুন আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকতে হচ্ছে, যেটি আমার মতে, শরীরকে একটি অযথা স্ট্রেস দেয় এবং শরীর গড়ার কাজের চেয়ে ভাঙ্গার কাজ বেশী হয়। ব্যহত হচ্ছে শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

মানুষের শরীর অনবরত একটি স্ট্রেসের মধ্যে আসলে শরীরের কোষ গুলো ভাঙ্গতে থাকে এবং সেই সাথে যে কোষ গুলো আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে তাদের কাজও সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না আর তাই, অনেকেই নানান ধরনের রোগবালাইয়ের শিকার হচ্ছেন।

এখন শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ঠিক রাখতে কি করা উচিৎ?

আমি মনে করি, এই মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে মাছ, বিশেষ করে শৈল, মাগুর এবং শিং, পর্যাপ্ত পরিমাণে মাংস বিশেষ করে গরুর মাংস এবং শাকসবজি বিশেষ করেঃ লাউ, করলা, পটোল, আলু, লেবু, শশা এবং কাকরল। নানা ধরনের ফল জেমনঃ আমড়া, কামরাঙা, আমলকী, আঙ্গুর, পেয়ারা, কলা ইত্যাদি বেশী পরিমাণে খাওয়া উচিৎ।

শাকসবজিতে ভিটামিন, মিনারেল এবং  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ভাঙ্গা-গড়ার খেলায় যে কোষ গুলো ভেঙ্গে যায় সেগুলো ভাঙ্গা রোধ করে। লেবুতে ভিটামিন সি আছে যা ন্যাচারাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত এবং তাই এই সময়ে লেবুর শরবত বেশ উপকারী।

ফল, বিশেষ করে টক জাতীয় ফল গুলো ভিটামিন সি-এর খুব ভালো একটি উৎস। সেটি ছাড়া ফল শরীরে পটাশিয়ামের ঘটাতি কমায় এবং দেহের কোষের, বিশেষ করে হার্টের কোষের, স্বাভাবিক কাজ করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে।

বর্ষার মৌসুমে এসব সবজি এবং ফল কেনার পর অবশ্যই দু-তিনবার ভালো করে ধুয়ে তারপর রান্না করতে হবে। এতে জীবাণু বা কোনো রাসায়নিক থাকলে তা দূর হবে। মনে রাখতে হবে, এ সময় যা খাবেন তা যেন অবশ্যই পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হয়।

মাছ বিশেষ করে শৈল মাছে অনেক আয়রন আছে যা শরীরের হিমোগ্লবিল তৈরিতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে এবং শরীরের কর্মক্ষমতা সঠিক রাখতে সহয়তা করে। অনেক পূর্বে নানি-দাদি, মা, খালারা অসুখের সময় এমনি, এমনি শৈল মাছের তরকারি খেতে বলতেন না।

মাংস যেমন গরুর মাংসে অনেক পরিমাণে জিংক আছে যা শরীরের কর্মক্ষমতা অনেকাংশে বাড়ায়। তাছাড়া, গরুর মাংসে থাকে লিপিড যা দেহের কোষের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। তবে, যে কোন খাদ্যই পরিমিত পরিমাণে আহার করা উচিৎ। যারা গোমাংস খেতে চান না তারা মাছ এবং শাকসবজির উপর নির্ভর করলেও চলবে।

সেই সাথে, কিছু বদভ্যাস ত্যাগ করা উচিৎ। যেমনঃ ধূমপান, মাত্রাতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহন, কোমল এবং ‘কঠিন’ পানীয়, অতিমাত্রায় রাত জাগা ইত্যাদি বদভ্যাস গুলো শরীরের কোষ গুলোকে আরও বেশী পরিমাণে ধ্বংস করে। এমনিতেই রোদ-বৃষ্টির খেলায় শরীরের কর্মক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যহত হচ্ছে সেই সাথে এসব বদভ্যাস আমাদের কোষ গুলোকে আরও বেশী ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আশা করি এই পোস্ট সবার উপকারে আসবে।

ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

যে কোন সমস্যায় হোমিওপ্যাথির চিকিৎসক থেকে একশহাত দূরে থাকুন।

একজন এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমডি/এমএস, এমআরসিপি/এমআরসিএস পাশ করা  চিকিৎসকের উপর আস্থা রাখুন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সাফল্যঃ আলাদা হলেন তোফা এবং তহুরা

c746d68bbc953ea4292093669fac01e9-597ef6d343173

জন্মের পর থেকে ১০ মাস তোফা ও তহুরা একসঙ্গে বড় হয়েছে। পিঠের কাছ থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত তারা পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। দুজনের পায়খানার রাস্তা একটি। তবে জোড়া লাগা এই যমজের মাথা-হাত-পা আলাদা। তোফা-তহুরা যেভাবে জোড়া লাগানো, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় পাইগোপেগাস। এদেরকে আলাদা করার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

আজকে শিশু সার্জারি বিভাগে এদের সার্জারি সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।  শিশু দুটোর অস্ত্রোপচারে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ১৬ জন সার্জন যুক্ত থাকেন। তাদের আলাদা করার পর দুটো অপারেশন থিয়েটারে দুই দলে ভাগ হয়ে কাজ করেন সার্জনরা। অস্ত্রোপচারে আনুমানিক সময় লেগেছে ছয় ঘণ্টা।  দুই শিশুর স্পাইনাল কর্ড, মেরুদণ্ড, পায়খানার রাস্তা ও প্রস্রাবের রাস্তা আলাদা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই শিশু সুস্থ আছে।

বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে পাইগোপেগাস শিশু আলাদা করার ঘটনা এটি প্রথম। এর আগে অন্যান্য হাসপাতালে তিন জোড়া শিশুকে অস্ত্রোপচার করে আলাদা করা হয়েছিল। তাদের ধরন ছিল আলাদা।

নিঃসন্দেহে, বাংলাদেশের জন্য এই দেশের চিকিৎসকরা একটি বড় সাফল্য বয়ে এনেছেন।

সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসকদের জানাই অভিনন্দন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

বাংলাদেশে ট্রান্সক্যাথেটার অ্যাওরটিক ভাল্ব ইমপ্ল্যান্ট

transfemoral-approachহৃৎপিণ্ডের ভাল্ব গুলো একমুখী দরজার মতো যা এক দিকে খোলে এবং বিপরীত দিকে বন্ধ হয়। এরা হৃৎপিণ্ডের রক্ত চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। ভাল্বে সাধারনত দুই ধরণের অসুস্থতা দেখা যায়ঃ (১) ভাল্ব সরু হওয়ার ফলে সেখান দিয়ে রক্তের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। ২) ভাল্ব রিগারচিটেড করা যেখানে কিছু রক্ত পেছনের দিকে চলে যায় এবং সন্মুখ দিকের রক্তপ্রবাহ কমে যায়।

হৃৎপিণ্ডের ভাল্ব চারটি এবং এই চারটি ভাল্বের মধ্যে মাইট্রাল এবং অ্যাওরটিক ভাল্ব বেশী খারাপ হয়। সবচেয়ে বেশী ভয়ংকর হলো অ্যাওরটিক ভাল্ব ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাওয়া। এই ক্ষেত্রে ভাল্ব রিপ্লেস করতেই হবে। আবার অনেকে আছেন যারা ভাল্ব রিপ্লেস করতে চান না বুক কাটার ভয়ে।

তবে ভালো কথা হলো, বর্তমানে, স্বল্প পরিমান সারজিকাল ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভাল্ব রিপ্লেসমেন্ট করার পদ্ধতি চালু হয়েছে। বেশ কিছুদিন পূর্বে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চীফ কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোমেনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে বরিশালের স্বনামধন্য ডেন্টাল সার্জন অধ্যাপক সাইদুর রহমানের নষ্ট হয়ে যাওয়া অ্যাওরটিক ভাল্বের সফল চিকিৎসা ট্রান্সক্যাথেটার অ্যাওরটিক ভাল্ব ইমপ্ল্যান্টের মাধ্যমে করা হয়েছে।

বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটা খুবই আশাপ্রদ একটি ব্যাপার। এটাতে বুক কাটাকাটির ব্যাপারটি নেই এবং ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজীর ন্যায় একটি ক্যাথেটারের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডের ভাল্বের কাছে যেয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া ভাল্বটি রিপ্লেস করা হয়।

হ্যাঁ, পদ্ধতিটি এখনও ব্যয় সাপেক্ষ তবে আশার কথা হলো এটার মূল্য আস্তে, আস্তে কমতে থাকবে। অন্তত দেশের বাইরে যাওয়ার প্রবনতা অনেক ক্ষেত্রে কমে আসবে।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সাফল্য

বিদেশ থেকে রোগীরা বাংলাদেশে চিকিৎসার জন্য আসছে। যারা একটু পাতলা পায়খানা হলেই দেশপ্রেমের মোহ ত্যাগ করে বিদেশে পাড়ি জমান তাদের জন্য এই খবরটা বিস্ময়করই বটে। বাংলাদেশের মাটিতে যে ভালো চিকিৎসক এবং ঔষধ তৈরি হয় সেটা উনারা মানতে চান না। দেশের সব টাকা বাইরে খরচ কয়রে দেশে এসে দেশপ্রেমের জ্ঞান দান করেন।

জি হ্যাঁ, বাংলাদেশের চিকিতসকদের কাছেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মতো দেশ থেকে রোগীরা আসছেন ক্রনিক হেপাটাইটিস এর চিকিৎসা নিতে! বাংলাদেশি চিকিৎসকের উদ্ভাবিত জীবন রক্ষাকারী যে ঔষধের কারণে ছুটে আসছে বিভিন্ন দেশের রোগীরা! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি (লিভার) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) স্যার ও জাপান প্রবাসী চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর স্যার বাংলাদেশে সফল হেপাটাইটিস চিকিৎসার নেপথ্য কারিগর।

নাসভ্যাক (Novel Nasal Vaccine for Hepatitis B বা NASVAC) বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উদ্ভাবিত প্রথম নিউ ড্রাগ মলিউকিউল যেটি ক্লিনিকাল ট্রায়ালের নানা ধাপ পেরিয়ে শেষ ধাপে আছে। বর্তমানে কিউবাসহ পৃথিবীর আরো কিছু দেশে ইতিমধ্যে বাজারজাত শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের FDA এবং বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন এর অনুমতি নিয়ে নাসভ্যাক এর  ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালিয়ে দেখা গেছে ন্যাসভ্যাক প্রয়োগে ৬ মাসে ৫৯% হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের কারনে ক্রনিক হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগী সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করেছেন।

প্রচলিত স্বীকৃত ওষুধ পেগাইলেটেড ইন্টারফেরন প্রয়োগে আরোগ্য পেয়েছেন ৩৮ শতাংশ রোগী। বর্তমানে ওষুধটি জাপানে মাল্টি সেন্টার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আছে। প্রয়োজনীয় আইন না থাকায় এটি এখনো বাংলাদেশে প্রস্তুত করা যায় নি তবে আগামী ২-১ বছরের মাঝেই এটি বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানেই সাফল্যের গল্পের শেষ নয়! যদি বলি এদেশেই স্টেম সেল থেরাপী দেয়া হচ্ছে! হ্যাঁ, ডা. সপ্নীল ও তার দল  বাংলাদেশেই স্টেম সেল থেরাপীর মাধ্যমে লিভার সিরোসিস বা ফেইলিউর হয়ে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসা শুরু করেছেন।

লিভার সিরোসিস বা ফেইলিউর হওয়া অধিকাংশ রোগী মৃত্যুবরণ করেন এবং এর প্রচলিত চিকিৎসা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট । যাতে খরচ প্রায় ৪০-৫০ লক্ষ টাকা  আর উপযোগী ডোনার পাওয়াও কষ্টসাধ্য। কিন্তু স্টেমসেল পদ্ধতিতে চিকিৎসা খরচ মাত্র ৫০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা। স্টেম সেল ব্যবহারের পদ্ধতিটি নতুন না হলেও ডাঃ স্বপ্নীল ও তার দল নিজস্ব উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে সরাসরি লিভারের আর্টারিতেই স্টেম সেল প্রয়োগ করছেন এবং এ প্রক্রিয়া ৩ জন রোগীর উপর প্রয়োগ করে ইতিমধ্যে সাফল্য  পেয়েছেন।

আর একটি বিষয় জানা দরকার যে, হেপাটাইটিস-বি এর পাশাপাশি হেপাটাটিস-সি ভাইরাসও লিভার নষ্ট হয়ে মারা যাবার অন্যতম কারণ। বহির্বিশ্বে  এই রোগে ব্যবহার্য ওষুধের মূল্য প্রায় ১ লক্ষ ডলার! কিন্তু বাংলাদেশে সেই একই ওষুধ এর মূল্য কত জানেন? মাত্র ১ হাজার ডলার! তৈরি করছে ইনসেপ্টা এবং বিকন। মূল একটিভ মলিকিউল তৈরি করা কোম্পানি বাংলাদেশ ও ভারতে এই ওষুধ তৈরির অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত পেটেন্ট রেস্ট্রিকশন পাওয়ায় এখানে এই ওষুধের দাম ভারতের চেয়ে কম। তাই বহির্বিশ্বের প্রচুর রোগী এই ওষুধ নিতে সরাসরি বাংলাদেশে আসছেন কিংবা অনলাইনে অর্ডার করে নিচ্ছেন।

শুধু লিভার কেন? হৃদরোগ, স্ট্রোক, পক্ষাগাথ গ্রস্থতা, ফুসফুসের সমস্যা, সংক্রামক ব্যাধি, আন্ত্রিক সমস্যা, সার্জারি এবং গাইনিতে আমাদের দেশের চিকিৎসকদের সাফল্য অনেক। একটা দেশের গড় আয়ু এমনি এমনি বাড়ে না।

আপানদের গালি, মারধর, মামলা-হামলা এবং মিডিয়ার মিথ্যা প্রপাগান্ডাকে উপেক্ষা করে এই বাংলাদেশের চিকিৎসকরা যা করছেন সেটা প্রশংসার দাবিদার। দেশকে সুস্থ রাখতে এই দেশের চিকিৎসকদের অবদান অনেক। দেশপ্রেম থাকলে এই দেশে চিকিৎসা নিন। দেশের টাকা দেশে রাখুন।

বিঃদ্রঃ তথ্য গুলো স্বীকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে নেওয়া।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

 

 

আমাদের দেশে কি দক্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই?

9ad140a8c0bb3bda9ad22fdcf70250ea-5975a107b6777পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শেলের’ আঘাতে আহত তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানের সাথে কৃত ন্যাক্কারজনক আচরনের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানাই। সিদ্দিকুর রহামানের চোখে ভালোভাবে দেখতে পারছেন না। বাঁ চোখের এক পাশ থেকে আলো দেখছেন সিদ্দিকুর রহমান। তবে তাঁর ডান চোখের অবস্থা আগের মতোই আছে। এই চোখে তিনি কোনো আলো দেখছেন না। গত শনিবার একই হাসপাতালে সিদ্দিকুরের দুই চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। আজ সকালে তাঁর চোখের সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসকেরা।

সিদ্দিকুর ভাই স্থায়ীভাবে অন্ধ নন এবং উনার এই সমস্যার সমাধান আছে।

আজকে পড়লাম উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে পাঠাবে সরকার। আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   হ্যাঁ, যদি এই চিকিৎসা দেশে সম্ভব না হতো তাহলে যে দেশে এই চিকিৎসা আছে সেখানে রেফার করাই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু এই চিকিৎসা আমাদের দেশেই সম্ভব।   তাহলে টাকা খরচ করে বিদেশে কেনো পাঠাতে হবে? আমাদের দেশের চিকিৎসার মান কি খুবই খারাপ?

আমাদের বাংলাদেশে অনেক নামকরা চক্ষু বিশেষজ্ঞ আছেন।

সরকার নিজে যদি বিদেশে রোগী রেফার করেন তাহলে এই দেশের সাধারন মানুষ আমাদের ব্যাপারে কি মনভাব পোষণ করবেন?

বিএমএ-র বুলি সর্বস্ব নেতাদের কি এই কথা বলার মেরুদণ্ড নেই যে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত!?

সরকার নিজ থেকে বিদেশে রোগী রেফার করে কোন ধরনের দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঠিক বুঝে পেলাম না!

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

শুকনো কাশি নিয়ে কিছু কথা

dry-cough

বাংলাদেশে অনেকেই শুকনো কাশিতে ভোগেন। একজন ব্যক্তির শুকনো কাশি হলে তিনি খুবই কাশতে থাকেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই এটা সহজে বন্ধ হয় না। এমনও দেখা গিয়েছে, শুকনো কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তি রাতে ভালভাবে ঘুমাতে ও পারে না এবং যে কোন সোশ্যাল গেদারিং-এ খুবই এমবেরিসিং পরিস্থির শিকার হন।

তবে এই শুকনো কাশি একটু কাশির সিরাপ খেলে কিংবা গরম পানি দিয়ে গারগেল করলেই চলে যায়। আবার কারো, কারো ক্ষেত্রে এই কাশি শুরু হয় আবহাওয়া একটু ঠাণ্ডা হলে কিংবা ধুলোবালির সংস্পর্শে আসলে। টিগারিং ফ্যাক্টরের – ঠাণ্ডা আবহাওয়া এবং ধুলোবালি – তীব্রতা কমে গেলে, শুকনো কাশি আবার উধাও হয়ে যায়।

কি, কি কারনে শুকনো কাশি হতে পারে?

সবচেয়ে কমন কারন গুলো হলোঃ

১। ভাইরাস জনিত ফ্লু।

২। অ্যালার্জি।

৩। বায়ুদূষণঃ সিগারেট, যানবাহন ইত্যাদির ধোঁয়া

৪। এসিড রিফ্লাক্স অর্থাৎ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে।

অন্যান্য কারন গুলোর মধ্যে আছেঃ

১। কোন ঔষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

২। সাইকোজেনিক শুকনো কাশি।

৩। দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপের কারনে শুকনো কাশি।

শুকনো কাশি কি কারনে হচ্ছে সেটা কখন ধারনা করতে হবে?

১। শুকনো কাশির সাথে জ্বর, মাথা এবং গায়ে ব্যথা থাকলে ধারনা করতে হবে সেটা ভাইরাস জনিত ফ্লুর কারনে হয়েছে।

২। আবহাওয়া একটু ঠাণ্ডা হলেই যদি শুকনো কাশি শুরু হয়ে তাহলে ধারনা করতে হবে রোগীর হাঁপানির সম্ভবনা আছে। অনেকেই আছেন যারা বলেন যে তাদের কোন কালেও হাঁপানি ছিলো না এবং এটা হঠাৎ করে হয়েছে তারা বলতে ভুলে যান, একটু বৃষ্টি হলে এবং শীতকালে তারা শুকনো কাশিতে ভুগতেন এবং কিছু কাশির সিরাপ কিংবা গরম পানি দিয়ে গারগেল করে সেটার তীব্রতা কমিয়েছেন। এই কাশিকে তারা অবহেলা করেছেন এবং কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবার প্রয়োজন বোধ করেননি। একটা সময়ে এসে এই শুকনো কাশিই হাঁপানি রূপে আবির্ভূত হয়।

৩। ধুলোবালি, স্বল্প বায়ুদূষণ কিংবা চিংড়ি, ইলিশ মাছ অথবা বেগুন খেলেই জাদের কাশি শুরু হয়ে তাদের ক্ষেত্রে ও হাঁপানির ধারনা করতে হবে।

৪। অনেক রোগী আছেন যারা বালিশে শুলেই শুকনো কাশির শিকার হন। তখন ধরনা করতে হবে উনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে। উনাদের খাদ্য নালীর আংটা খুবই দুর্বল এবং দেরী করে আটকায় এবং ফ্ল্যাট হয়ে শুলেই পেটের এসিড গলা পর্যন্ত চলে শুকনো কাশির উদ্রেগ করে।

৫। কিছু রোগী আছেন যাদের শুকনো কাশির অভ্যাস আছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কাশতে, কাশতে এদের এই অভ্যাসটা গড়ে উঠে। ঘুমালে আবার এই কাশি চলে যায়।

৬। মানসিক চাপ কিংবা দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকা কিছু রোগীর মানসিক স্ট্রেস বেশী হলেই কাশি শুরু হয় এবং সেই সাথে বড়, বড় শ্বাস নিতে থাকেন। তখন ধারনা করতে হবে রোগীটি হয়ত কোন এংক্সাইটি নিউরোসিস কিংবা প্যানিক অ্যাটাকে ভুগছেন।

উপরের ছয়টি পয়েন্ট শুধুই ধারনা করতে বলা হয়েছে। শুকনো কাশি হলেই সেগুলো এসব কারনেই হয়েছে সেটা ভেবে বসে থাকার কোন কারণই নেই। একজন দক্ষ ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞই সঠিক কারন নিরূপণ করতে পারবেন। শুকনো কাশি খুব ঘনঘন হলে অবশ্যই একজন ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন এবং নিজের সমস্যার কথা জানান।

শরীরের কোন লক্ষণই অবহেলা করার মতো নয়।

আপনার চিকিৎসকের উপর আস্থা রাখুন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

রিপোর্ট করার পূর্বে একটু বুঝেশুনে করা কি উচিৎ নয়?

15391068_10154324495293515_1760066700445813296_n

আয়রন ইনজেকশন পেয়ে যে রোগী মরে যেতে পারে সেটা এই সাংবাদিক ভাইয়ের রিপোর্টের মাধ্যমে জানলাম। আর শমরিতা হাসপাতালের বিরিদ্ধে অভিযোগটা দেখে আরও বিস্মিত হলাম। কারন এই হাসপাতালে আমি দেড় বছর কাজ করেছি এবং অনেক কিছু শিখেছি। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, এই দেড় বছরে একটি দিনও প্রফেশনাল নেগ্লেজেন্সি কিংবা ম্যাল প্র্যাকটিস নামক ব্যাপারটি লক্ষ্য করিনি। এই হাসপাতালের সিনিয়র এবং জুনিয়র চিকিৎসকদের সবাই দক্ষ এবং যেখানে প্রফেসার এম, এন, আলম এবং দ্বীন মোহাম্মদ রোগী দেখেন সেই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পূর্বে দুবার ভেবে দেখা উচিৎ।

বলে রাখা ভালো শমরিতা কোন ক্লিনিক নয়। এটা একটি হাসপাতাল।

রিপোর্টার সাহেব যে বলে দিলেন আয়রন ইনজেকশন দেবার জন্য রোগীর মৃত্যু হয়েছে সেটা কি উনি মেডিকেল লজিক দিয়ে প্রমান করতে পারবেন?

গর্ভাবস্থায় যদি কারো মাঝারি থেকে বেশী মাত্রার রক্ত শূন্যতা থাকে তাহলে তাদেরকে পাররেন্টাল আয়রন থেরাপী দেবার ইন্ডিকেশন আছে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকগণ আয়রন ডেক্সত্রানের চেয়ে আয়রন সুক্রোজকে বেশী প্রেফার করেন কারন আয়রন সুক্রোজে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার – হাইপারসেন্সিটিভিটির – মাত্রা ডেক্সত্রানের চেয়ে অনেক কম। আয়রন ডেক্সত্রানে ‘ডেক্সত্রান’ মোয়েটির জন্য হাইপারসেন্সিটিভিটি হয় আর তাই এটার ব্যবহার তেমন একটা হয় না বললেই চলে।

২০১৩ সালে NCBI-তে প্রকাশিত একটি স্টাডির মতে,

The all-event reporting rates for iron dextran, sodium ferric gluconate, and iron sucrose were 29.2, 10.5, and 4.2 reports per million 100mg dose equivalents,respectively, while the all-fatal-event reporting rates were 1.4, 0.6, and 0.0 reports per million 100mg dose equivalents, respectively. Iron sucrose appears to have a favorable safety profile and is an alternative to other forms of parenteral iron therapy in correction of depletion of iron stores. Rare anaphylactic reactions with iron sucrose have been reported in 0.002% of cases.

অর্থাৎ, আয়রন সুক্রোজে কোন ধরনের তীব্র পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, অ্যানাফাইলেকটিক রিএক্সনের রেট কম এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

আর কোন রোগীকে ওরাল আয়রন থেরাপী কিংবা ইঞ্জেক্সনের জন্য মৃত্যু বরণ করতে হলে তার রক্তে আয়রনের পরিমান ১০০০ মাইক্রোগ্রাম/ডিএলের ও বেশী হতে হবে যেটা আইভি থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসারত অবস্থায় হওয়াটা এক কথায় অসম্ভব ব্যাপার।

যিনি মারা গিয়েছেন তার রক্তশূন্যতার মাত্রা হয়ত এতটা বেশী ছিলো যে উনি এনিমিক হার্ট ফেইলরের ষ্টেজে চলে গিয়েছিলেন যেটা একটি ফাটাল কন্ডিশন এবং প্রেগন্যান্ট অবস্থায় এরকম কন্ডিশন গুলো খুবই ক্রিটিকাল এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশী থাকে। এখানে চিকিৎসকের ভুল কি করে হয় কিংবা ভুল মেডিসিন দেবার কারনে রোগীর মৃত্যু কিভাবে হয় সেটা বুঝতেই পারলাম না।

কোন রিপোর্ট করার পূর্বে একটু বুঝেশুনে করা কি উচিৎ নয়?

আপানদের কথা মতে চিকিৎসকরা ভুল করেন কিন্তু এই ভুল রিপোর্টটি করে আপনি কি নিজের পেশার প্রতি সুবিচার করেছেন?

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

একজন রোগীকেও যথেষ্ট দায়িত্বশীল হতে হবে

image-25043

প্রথমত, বহির্বিভাগ এবং চেম্বারে রোগী ছাড়া শুধু রোগীর রিপোর্ট নিয়ে দেখাতে আসটা ঠিক নয়। রোগীর রিপোর্টে যদি উল্লেখযোগ্য কিছু থাকে তাহলে সেটা রোগীর সাথে ডিসকাস করা খুবই জরুরী। রোগীর অভিবাবকদের সাথে ডিসকাস করে কিন্তু কোন লাভ হয় না।

তারপর, রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যদি কোন মেডিসিন প্রেস্ক্রাইভ করতে হয় তাহলে অবশ্যই রোগী আরও একবার ভালোভাবে এক্সামিন করে এবং আরও একটু হিস্ট্রি নিয়ে সেটা প্রেস্ক্রাইভ করতে হয়। সেজন্য রোগীর উপস্থিত থাকটা খুবই জরুরী।

সর্বোপরি, একজন চিকিৎসক অনেক রোগী দেখেন। তার পক্ষে সব রোগীর কথা মনে রাখাটা সম্ভব নয়। সেজন্য রিপোর্টের সাথে, সাথে রোগীকেও নিয়ে আসবেন। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগীর লোক এই বলে অজুহাত দেয়, রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ তাই তাকে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি যেটি ডাহা মিথ্যা কথা। কারন রোগীর অবস্থা যদি খুব খারাপই হয় তাহলে তাকে বাসায় রাখার কোন মানেই হয় না।

রোগীদেরকে নিয়ে কখনও মিথ্যা কথা বলা উচিৎ নয়।

বহির্বিভাগে আমার সাথে কর্তব্যরত রেসিডেন্টদের আমি বলে দেই তারা যেন এই ধরনের রোগীর লোকদের রিপোর্ট গুলো না দেখে। কারন রোগী না দেখে কোন কিছু অ্যাডভাইস করলে পরবর্তীতে যদি রোগীর কিছু হয় তাহলে উল্টো তারাই বিপদে পড়বে।

এই দেশের লোক চিকিৎসা ঠিকই নিবে কিন্তু রোগীর পান থেকে চুন খসলে দাঁ-বটি নিয়ে চিকিৎসককে ঠিকই খুন করতে আসবে।

দ্বিতীয়ত, পাড়ার ফার্মেসী থেকে ব্লাডপ্রেশার মাপিয়ে আমাদের কাছে আসবেন না। এসব ফার্মেসীতে কর্তব্যরত ব্যক্তিগন চিকিৎসক নয় এবং হাইপারটেনশনের মেডিসিন বিক্রি করার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই তারা প্রেশার একটু বেশী বলেন যেন আপনি ভয় পেয়ে তার কাছ থেকে মেডিসিন কিনেন। ব্লাডপ্রেশার কিভাবে মাপতে হয় সেটা তারা জানে তো নাই বরঞ্চ ভুলভাল রিডিং দিয়ে রোগীকে বিভ্রান্ত করে।

একজন রোগীর ব্লাডপ্রেশারের রিডিং হাইপারটেনশন না থাকলেও বেশী আসতে পারে যেটা White Coat Hypertension নামে পরিচিত। এটা কিন্তু হাইপারটেনশন নয়। কিংবা ব্লাডপ্রেশার কখন কি কারনে ফ্লাকচুয়েট করে সেটি একজন দোকানদার কখনও বুঝতে পারবে না।

অতঃপর অযথা টাকা খরচ হবে এই কথা না ভেবে নিজের ব্লাডপ্রেশার সর্বদা একজন চিকিৎসক দিয়ে মাপাবেন। নিজের জীবনটা নিশ্চয় টাকার চেয়ে বেশী মূল্যবান নয়।

তৃতীয়ত, কোন মেডিসিন চলাকালীন সময়, ধূমপান, পান, জর্দা, অ্যালকোহল পরিহার করুন। কারন তামাক এবং অ্যালকোহল মেডিসিনের কাজে বাঁধা দেয়। এখন আমি মেডিসিন লিখে দিলাম কিন্তু আপনি আপনার বদভ্যাস ত্যাগ করলেন না তাহলে আমার এবং আপনার দুজনের পরিশ্রমই বৃথা।

অনেক রোগীই এসে বলেন, মেডিসিনে কাজ হচ্ছে না। তখন আমরা জিজ্ঞেস করি, আপনি আপনার বদভ্যাস ত্যাগ করেছেন কিনা? তখন উনারা হাসতে থাকেন। উনারা মনে করেন আমাদের অ্যাডভাইস করা মেডিসিনে উনারা ভালো হয়ে যাবেন এবং বীরের মতো ধূমপান, জর্দা এবং অ্যালকোহল পান করতে থাকবেন।

মেডিসিন রোগী সুস্থ করতে প্রেস্ক্রাইভ করা হয়, বদভ্যাস গুলোকে বৈধ করতে নয়।

পরিশেষে, আপনি যদি কোন চিকিৎসার ব্যাপারে দ্বিতীয় কোন অপিনিয়ন নিতে চান তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের অপিনিয়ন নিন। পাশের বাড়ির ভাই-ভাবী কিংবা বলদ আত্মীয়দের অপিনিয়ন নিয়ে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনবেন না।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

Link between air pollution and still birth – Bangladesh should be careful

air-pollution

“There are more than 3,600 stillbirths every year in the UK, which means that 11 babies are stillborn every day. Worldwide, there are an estimated 2.6 million stillbirths each year.

To date, two reviews of the published evidence have suggested a possible link between stillbirths and air pollution. However, further evidence has since emerged, prompting a team led by the University of Oulu in Finland to conduct a systematic review of research published up to 2015.

They say that the 13 studies found an association between exposure to air pollution and a heightened risk of stillbirth. This association was strongest during the third trimester of pregnancy.

Specific findings show that a 4 ug/m3 increase in exposure to small particulate matter of less than 2.5 microns is associated with a 2% increased risk of stillbirth. Also that exposure to nitrogen dioxide, carbon monoxide, fine particulate matter of 10 microns or less, and ozone are all linked to higher risk”.

Source: Medscape

Now, this is the picture of UK where environmental pollution is thought to be less. If I start thinking about only Dhaka city, let alone the whole of Bangladesh then, the picture will not be a chummy one. In Dhaka, the level of environmental pollution is quite massive and people are heavily exposed to various toxic pollutants every day. If this study about the link between still birth and air pollution proves its worth in future, then, I am sure, the pregnant women of Dhaka city will be at greater risk.

Environmental pollution is a disease which can’t be cured, but can be prevented. So far, I don’t think none of us have taken effective initiatives to prevent this disease. Along with the population-boom, environmental pollution is a major issue to create headaches for Bangladesh. But sadly, we always deny to notice the major issues.

 

Thank You

Faisal Caesar