মেহেল্লাসা পারভি নামের চিকিৎসক এবং ক্রিকেটার

১৮৪৮ সালে উপমহাদেশের পারসি কমিউনিটি ইউরোপিয়ান ক্লাবের একটু দূরে এসপানালডি ময়দানে নিজদের ক্রিকেট ক্লাব গঠন করে। ক্লাব গঠনটি অনেকটা হুজুগের বশেই হয়েছিলো এবং তাই ইউরোপিয়ান ক্লাবের সাথে মুখোমুখি হবার আগেই তারা হেরে বসে থাকত। কিন্তু ১৮৭৭ সালে তারা যখন ইউরোপিয়ান ক্লাবকে হারায় তখন পারসিরা ক্রিকেটকে আরও বেশী সিরিয়াসলি নিতে শুরু করে।

নয় বছর অপেক্ষার পর, ১৮৮৬ সালে, তারা ইংল্যান্ডে ট্যুর করে। এই ট্যুরটি ছিলো অনেকটা এক্সপেরিমেন্টাল বেসিসে। পারসিরা মোট ২৮টি ম্যাচ খেলে এবং জয় পায় মাত্র একটিতে।

১৮৮৮ সালে তারা আবার ইংল্যান্ডে ট্যুর করে। ফলাফলঃ ৮টি জয়, ১১টি হার এবং ১২টি ড্র। এই অসাধারন ইম্প্রভমেন্টের পেছনে মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন মেহেল্লাসা পাভরি নামের একজন ফাস্ট বোলার। ছয় ফুট উচ্চতার পাভরি পেশায় ছিলেন একজন চিকিৎসক কিন্তু ক্রিকেটের উপর তার ছিলো বেজায় নেশা। তার বলের গতি ছিলো দমকা হাওয়ার ন্যায় এবং স্ট্যাম্প উপরে ফেলতে উনি বেশ পছন্দ করতেন। সেই ট্যুরে পাভরি ১১.৬৬ গড়ে ১৭০ উইকেট পেয়েছিলেন।

পারসিরা ১৮৯০ সালে আবারও ইংল্যান্ড ট্যুর করে। যই এফ ভারননের ইংল্যান্ড দলের খেলা দেখতে ১২০০০ দর্শকের সমাগম হয়েছিলো। সেই দর্শকদের সামনে পাভরি তার পেস এবং কন্ট্রোল দিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডারকে কুপোকাত করে দিয়েছিলেন। উনি ৩৪ রানের খরচায় উইকেট নেন ৭ টি।

১৮৯২ সালের ট্যুরে, পারভির দশ উইকেট, লর্ড হকের ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে ১০৯ রানের এক অবিশ্বাস্য জয় এনে দেয়। পারভি যেন এক জলজ্যান্ত ত্রাসের নাম। উপমহাদেশ থেকে এরকম ভাবে কেউ রাউন্ড দ্যা আরম বোলিং করে তার পেস এবং কন্ট্রোলের জোরে ব্যাটিং অর্ডারকে গুরিয়ে দিতে পারে সেটা অনেকের কাছেই তখন বিশ্বাস করার মতো ছিলো না।

বিশ্ব ক্রিকেটের আকাশে রয়েল কলেজ অফ ফিজিসিয়ান থেকে পাশ করা চিকিৎসক ডাব্লিউ জি গ্রেসে নামক প্রতিভাটি উজ্জ্বল সূর্যের ন্যায় জ্বলজ্বল করছে। সেই উজ্জ্বল সূর্যের ঝলকানিতে আরও একজন চিকিৎসকের ক্রিকেট প্রতিভা ঢাকা পড়ে গেলেও তার প্রতিভা উপমহাদেশে ক্রিকেটের প্রসারে ব্যাপক ভুমিকা পালন করে আসছিলো।

ক্রিকেট খেলাটিতে চিকিৎসকের অবদান অনেক।

অস্বীকার করতে চাইলেও উপায় নেই কারন ক্রিকেটের ইতিহাস মিথের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়নি যে।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

Advertisements