নিজের কিছু কথা

২০০৯ সালে আমি পুরো বেকার। একজন এমবিবিএস পাশ করা চিকিৎসক হয়েও আমি যে বেকার এটা কাউকে বলতেও পারছি না আবার নিজের কাছে হজম করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছিলো। ট্রেনিং করছি এবং চাকরি খুঁজছি কিন্তু ক্লিনিক গুলো বলে, কোন ট্রেনিং সার্টিফিকেট থাকলে ভালো হতো। এরা পরোক্ষ ভাবে না করে দিতে থাকলো।

পরের বছর প্রায় এক বছরের ‘অনহারির’ সার্টিফিকেট যোগার করে আবার চাকরি খুজতে বের হলাম। এবার স্কয়ার, সেন্ট্রাল, ল্যাব এইড এবং ধানমণ্ডি-৮ এবং সোবহানবাগের একটি ক্লিনিকে অ্যাপ্লাই করলাম। ওরে বাবা, এদের দরকার কোর্সে থাকা কিংবা পার্ট ওয়ান করা চিকিৎসক। ‘অনাহারি কাগজ দিয়ে হবে না। এতদিনে একটি কোর্স এবং পার্ট ওয়ান না থাকার জন্য ধানমণ্ডি-৮ এবং সোবহানবাগের নন-মেডিকেল এমডি যা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছিলো সেটা আজও মনে আছে।

এরপর আরও বাজে ক্লিনিকে অ্যাপালই করলাম কিন্তু সেখান থেকেও বিতাড়িত হয়ে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটা শুরু করেছিলাম। হাঁটতে, হাঁটতে ভাবলাম বাসায় যেয়ে সার্টিফিকেট গুলো ছিড়ে ফেলব। ভাই এখন, কবরস্তানের ন্যায় ক্লিনিকেও চাকরি না হওয়াটা একটা বড় অপমান। এত অপমানিত না হবার চেয়ে সার্টিফিকেট গুলো ছিড়ে ফেললেই ভালো হয়।

***

আশেপাশের সবার অবস্থান ভালো। সবাই চাকরি করছে। এফসিপিএস পার্ট ওয়ান করে ভালো জায়গায় ট্রেনিং করছে কিংবা এমডি/এমএস কোর্স জুটিয়ে দিব্বি দিন পার করছে। এদিকে আমি দিনের পর দিন পিছিয়ে যাচ্ছি। বাসা থেকে পরীক্ষার ফিস নিতে, নিতে বাসাও বিরক্ত কারন আমি তো কোথাও চান্স পাচ্ছি না। তাদের বিরক্ত হওয়াটা যুক্তিসঙ্গত। এরকম ফ্লপ মাস্টারকে দুই একবার সহ্য করা যায়। বারবার নয়। ওদিকে পেছাতে, পেছাতে সব বন্ধুও হারাতে থাকলাম। একজন বেকার হয়ে প্রতিষ্ঠিত বন্ধুদের সাথে মিশতে মন চাইত না। ধীরে, ধীরে আমাকে পেয়ে বসল অবসাদগ্রস্থতা।

এরপর একদিন এক নেতা যখন নিজের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কানাডা প্রবাসী এক মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তখন নিজেকে এত ছোট এবং ফেলনা মনে হতে লাগলো যে আমি আরও হতাশায় ভুগতে থাকলাম। হ্যাঁ, একটু সুবিধা লাভের আশায় কিছু নেতার কাছে যে ধন্যা দেইনি তা নয় তবে এই ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ আর সেদিন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম চিকিৎসা লাইন ছেড়ে দেব আর যা করার নিজেই করব। যাই করি না কেন, আমি কারও পেছনে ঘুরব না।  চিকিৎসা লাইনে থাকলেও না। আমি কষ্ট পেলেও কারও পেছনে ঘুরব না।

***

২০১০-এর মার্চের দিকে ছোটভাই রিয়াজের বদান্যতায় মাত্র ৫০০০ টাকার একটি চাকরি জোগাড় করলাম। সারাদিন একটি ক্লিনিকে ওয়াচ ডগ হয়ে থাকতে হবে। বাসা থেকে ভাত নিয়ে যেতাম এবং সেটা দুপুরে এবং রাতে ভাগ করে খেতাম। রাতে মশারি শরীরে জড়িয়ে ঘুমতাম। কোন কোন দিন রাতে ঘুমাতে পারতাম না। কারন মশক বাহিনীর আক্রমন সামলাতে, সামলাতে ভোর হয়ে যেত। যেদিন পাঁচ হাজার টাকা  হাতে আসত সেদিন মনে হত ঈদ। মাসের ঐদিন বাইরে ভালো কিছু খেতে পারতাম। কিন্তু এটা তো জীবন হতে পারে না। স্বপ্ন পূরণ করতে হলে এই চিকিৎসা লাইন আর নয়। এটা ছেড়ে দেবার চিন্তা করেছি। কিন্তু অনেক বছর কষ্ট করার পর অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। দুঃখ হয় সেই সময় গুলোর জন্য যেটা ছিল ক্যারিয়ার গড়ার সুবর্ণ সময়। আমি তো পিছিয়ে গিয়েছি।

***

ছেলেপেলে ২৩০০০ টাকার বেতন স্কেল নিয়ে কত আলোচনা করে কিন্তু কখনও এসব বেসরকারি ক্লিনিক এবং হাসপাতাল গুলোর বেতন স্কেল নিয়ে কথা বলে না। এখানকার কর্মরত চিকিৎসকদের অবস্থা কতাটা করুন সেটা কেউই বুঝবে না।   সবাই পড়ে আছে সরকারি নিয়ে। এরা ভুলে যায়, এসব ক্লিনিকের মালিক গুলো নন-মেডিকেল এবং এদের সাথে অন্যান্য সাধারন ক্যাডারদের ভালো যোগাযোগ আছে। এরা এসব মালিকদের কাছ থেকে চিকিৎসক সম্পর্কে খুবই বাজে ধারনা নেয় এবং সেটার প্রভাব সব জায়গায় পড়ে। বেসরকারি হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ সরকারির চেয়ে বেশী। এটার পেস্কেল এবং চিকিৎসকদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত অনেক কিছুর সুষ্ঠু সমাধান হবে না।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

Advertisements

চলে গেলো শহীদ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৫০ তম ব্যাচের ছাত্র শহিদুল ইসলাম শহীদ আজ সকালে ওয়ার্ডএ ক্লাস করার সময় হঠাৎ কার্ডিয়াক এরেস্টে চলে হয়। কিছুক্ষন পরই জানা যায় শহীদ এই দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছে। ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি  রাজিউন। মহান আল্লাহ পাক শহীদকে জান্নাতবাসী করুক এবং তার পরিবার পরিজনকে এই আঘাত সহ্য করার শক্তি দান করুক।

২৪ বছরের একটি ছেলের যে কার্ডিয়াক এরেস্ট হতে পারে ঠিক মেনে নিতে পারছি না।  আমি জানি না শহীদের লাইফ স্টাইল কিংবা খাদ্যাভ্যাস কেমন ছিলো কিন্তু মনে হচ্ছে তার জীবনে অনেক স্ট্রেস ছিলো। এই স্ট্রেস তার কার্ডিয়াক হেলথে অনেক প্রভাব ফেলে এবং যেটার পরিনতি ভালো হয়নি। আর যদি সে হার্টের ভাল্বের (বিশেষ করে অ্যাওরটিক ভাল্বের পথ সরু হওয়া) রোগে আক্রান্ত কিংবা জন্মগত কোন ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে এরকমটি হওয়া অস্বাভাবিক কিছুই নয়।

এই যুগে তরুনদের মধ্যে হৃদরোগ হওয়াটা অসম্ভব নয়।

বর্তমান যুগের ‘কুল’ ছেলেপেলেরা ব্রেনের উপর অনেক প্রেশার দিলেও শারীরিক কসরত থেকে অনেক দূরে থাকে। জাঙ্ক ফুড নির্ভর এই জেনারেশন যা খায় সেটা খরচ করে না। অনেকে বলেন মেডিকেল সাইন্স পড়লে কায়িক পরিশ্রম করার সুযোগ থাকে না কিন্তু ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। যেমনঃ আমি প্রতিদিন হাঁটার সাথে, সাথে বিএসএমইমিউ-এর মেডিসিন বিভাগে ১৬ তলায় উঠতে লিফট খুব কম ব্যবহার করি এবং সিঁড়ি ভেঙ্গে ১৬ তলায় উঠি। সপ্তাহের ছয়দিনের মধ্যে তিন থেকে চারদিন ১৬ তলা সিঁড়ি ভাঙ্গলে মনে হয় ক্যালোরির খরচ ভালোই হচ্ছে এবং শরীর ঠিক আছে।

স্ট্রেসফুল এই যুগে, ২৪ কিংবা ২৫ বছর বয়স হলেই একটি মেডিকেল চেকাপের মধ্যে থাকা উচিৎ। বিশেষ করে বাংলাদেশী তরুন তরুণীদের জন্য এটা আবশ্যক।

পুষ্টিকর খাদ্যের প্রতি অনীহা, ভালো ফিগার তৈরির নামে ডায়েটিং, বডি বিলডিং-এর নামে স্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করে স্টেরয়েড নেওয়া, আধুনিকতার নামে পাগলা পানি পান, ইয়াবা এবং নেশায় আসক্তি, অকারনে রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় অতিবাহিত করা, প্রেম করা, প্রেম-ময় জীবনের হতাশা বিলাস, সারাদিন মেয়ে-মেয়ে করে সুন্দর জীবনকে বেশী স্ট্রেসফুল করা এবং নিজে কোন চেষ্টা না করে অযথা হতাশায় ভোগা ইত্যাদির জন্য এই জেনারেশনের অবশ্যই ২৫ বছরের পরপরই শারীরিক চেকাপ করা উচিৎ।

এই যুগে অল্প বয়সেই ছেলেপেলেরা হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে? এই যুগের ছেলেপেলেরা অলস এবং নিজেদেরকে কুল প্রমান করতে অযথা স্ট্রেস বেশী নিচ্ছে। আমাদের যুগে কুল হওয়া হারিয়ে যেত হয় মা না হয় বাবার মাইরের চোটে। এই কুল নামক অপদার্থদের ও মাইর দরকার। কঠিন মাইর। কোন ফালতু মোটিভেশন স্পিচ দিয়ে হবে না। না হলে বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মকে সঠিক পথে ফেরানো সম্ভব না।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

মেয়র আনিসুল হকের সেরেব্রাল ভাস্কুলাইটিস

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহজনিত রোগ ধরা পড়েছে। তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  তবে তাঁর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। দোয়া করি উনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক।

আসল কথায় আসি। পত্রিকা মারফত জানতে পারলাম, আমাদের দেশের চিকিৎসকগন মেয়রের রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারেননি। হুম, মেজাজটা একটু খারাপ হয়ে গেলো এবং আমি প্রথম আলো ব্রাউস করে পুরো নিউজটি পড়তে লাগলাম। নিউজটি পড়ে খুব আশ্চর্য হলাম যে, অধ্যাপক দ্বীন মোহাম্মদের এই বাংলাদেশে মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহজনিত রোগ অথবা সেরেব্রাল ভাস্কুলাইটিস এই দেশের কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ধরতে পারেনি এবং এটা হতেই পারে না।

সেরেব্রাল ভাস্কুলাইটিস রোগটি জটিল এবং সঠিকভাবে এই রোগ ডায়াগনোসিস করতে অন্যান্য পরীক্ষা যেমন রুটিন টেস্টের সাথে সেরেব্রাল এঞ্জিওগ্রাম, ব্রেনের এমআরাই এবং ব্রেনের বায়পসি উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে সেরেব্রাল এঞ্জিওগ্রাম খুবই সেন্সিটিভ একটি পরীক্ষা এবং বাংলাদেশেড় বিএসএমএমইউ-এর নিউরলোজি এবং নিউরোসার্জারি বিভাগ এই পরীক্ষাটি রুটিনলি করে যাচ্ছেন। সে হিসেবে, মেয়র আনিসুল হকের সেরেব্রাল ভাস্কুলাইটিস রোগটির সঠিক নিরূপণ না হবার খবরটি হজম করতে কষ্ট হচ্ছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আনিসুল হক রাজধানীর একাধিক বড় হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছিলেন। কিন্তু রোগটি শনাক্ত করা যায়নি।

আমি জানি না মেয়র সাহেব কোন, কোন বড় হাসপাতালে এই ব্যাপারে দেখিয়েছেন এবং তার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কারা ছিলেন তবে আমার মনে হয়, এদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিশ্চয়ই উনাকে সেরেব্রাল এঞ্জিওগ্রাম করার পরামর্শ দিয়েছিলেন যেটা হয়ত উনি বিলেত থেকে ফিরে এসে এখানেই করাতেন।

অতঃপর, আমি মনাতে রাজি নই যে মেয়র সাহেবের রোগটি এদেশের কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভালোভাবে ধরতে পারেনি। কারন যে দেশে প্রেফসর দ্বীন মোহাম্মদ এবং তার লেগেসি আছে সে দেশে একটি সেরেব্রাল ভাস্কুলাইটিস রোগের ডায়াগনোসিস করার সামর্থ্য চিকিৎসকদের আছে। বাংলাদেশের একজন এমডি। এমএস এবং এফসিপিএসের স্টুডেন্ট ও অনেক বড় রোগ শুধু হিস্টোরি নিয়ে ধরতে পারে। আর একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই রোগ ধরতে পারবে না? বিশ্বাস করলাম না……

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

এটা কেমন ব্যবহার?

Barisal_Medical_Doctor_Assault

পত্রিকার রিপোর্ট মোতাবেক, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে  বরিশাল মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের   শিশু বর্হিবিভাগে রোগী দেখছিলেন ডা. ফায়জুল হক পনির আহম্মেদ। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্টাফ নার্স এলিজা ও তার স্বামী শাহ্ আলম কোন টিকেট এবং সিরিয়াল ছাড়া তাদের অসুস্থ্য শিশু সন্তানকে নিয়ে ডা. ফায়জুল হক পনির আহমেদ কাছে যায়।

ঐ নার্স ডিউটিরত অবস্থায় ছিলেন না এবং পরনে ইউনিফর্ম ছিলো না। এ সময় চিকিৎসক তার কক্ষে দুজন শিশু রোগী দেখছিলেন। চিকিৎসক পনির তাদের একটু অপেক্ষা করতে এবং টিকেট কেটে পাশের কক্ষের জুনিয়র চিকিৎসককে দিয়ে ফরোয়ার্ডিং করিয়ে আনতে বলেন। এতে তারা ধৈর্য হারিয়ে অন্যান্য রোগীদের সামনে ডা. ফায়জুল হক পনিরের শার্টের কলার ধরে টানা হেঁচড়া করে তাকে মারধর করেন। আশপাশের অন্যান্য কক্ষের চিকিৎসরা গিয়ে ফায়জুল হক পনিরকে উদ্ধার করেন।

আক্রান্ত চিকিৎসক পনিরকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেও লাঞ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বর্হিবিভাগের চিকিৎসক ডা. রেজোয়ানুল আলম।

Barisal

ডা. ফায়জুল হক পনির আহমেদকে মারধরের প্রতিবাদে চিকিৎসা বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বর্হিবিভাগের সকল চিকিৎসকরা। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত স্টাফ নার্স এলিজা বেগম ও তার স্বামী মো. শাহ্ আলম ভূঁইয়াকে আটক করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এত আন্দোলন, মানবন্ধন, কালোব্যাজ ধারন, মার্চ, মাইকিং ইত্যাদি, ইত্যাদি করেও চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না? আর বাংলাদেশে কি একজন চিকিৎসকের সম্মান এতই নিচে নেমে গেছে যে নিজের হাসপাতালের কর্মীর কাছে শারীরিকভাবে হেনস্থা হতে হবে?

আমরা চিকিৎসকরা সিস্টার এবং ব্রাদারদের সাথে মিলেমিশে কাজ করি এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কাছে কৃতজ্ঞ এবং তাদের অনেক সময় অনেক উপকার করে থাকি। আমরা কি তাদের কাছ থেকে এরকম ব্যবহার ডিসারভ করি?

জুনিয়র লেভেলের চিকিৎসকদের একতা দেখে ভালো লেগেছে। তবে এসব একতা বেশী দিন থাকে না কারন কোন নেতা ভেতরে ঢুকে সব একতার বারোটা বাজিয়ে দেয়। কিন্তু নার্স এবং ওয়ার্ড বয়দের আন্দোলন শুরু হলে, এসব নেতা পরোক্ষ ভাবে তাদেরকেই সাপোর্ট দিবেন। কারন একজন চিকিৎসকের চেয়ে আর সবাই নেতাদের অনেক কাছের। এই দলে সিনিয়র প্রফেসর ও আছেন কিন্তু!

একজন জুনিয়র চিকিৎসক একবার আমাকে বলেছিলো সে এই দেশে থাকবে না কারন যতদিন যাবে ততই এই দেশে সম্মানিতদের সম্মান দেবার মতো লোকের অভাব হবে। ছেলেটি ঠিক কথাই বলেছিলো। সবার সম্মান থাকলেও এই দেশে অন্তত চিকিৎসকদের সম্মান নেই।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

আমাদের দেশে কি দক্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই?

9ad140a8c0bb3bda9ad22fdcf70250ea-5975a107b6777পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শেলের’ আঘাতে আহত তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানের সাথে কৃত ন্যাক্কারজনক আচরনের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানাই। সিদ্দিকুর রহামানের চোখে ভালোভাবে দেখতে পারছেন না। বাঁ চোখের এক পাশ থেকে আলো দেখছেন সিদ্দিকুর রহমান। তবে তাঁর ডান চোখের অবস্থা আগের মতোই আছে। এই চোখে তিনি কোনো আলো দেখছেন না। গত শনিবার একই হাসপাতালে সিদ্দিকুরের দুই চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। আজ সকালে তাঁর চোখের সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসকেরা।

সিদ্দিকুর ভাই স্থায়ীভাবে অন্ধ নন এবং উনার এই সমস্যার সমাধান আছে।

আজকে পড়লাম উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে পাঠাবে সরকার। আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   হ্যাঁ, যদি এই চিকিৎসা দেশে সম্ভব না হতো তাহলে যে দেশে এই চিকিৎসা আছে সেখানে রেফার করাই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু এই চিকিৎসা আমাদের দেশেই সম্ভব।   তাহলে টাকা খরচ করে বিদেশে কেনো পাঠাতে হবে? আমাদের দেশের চিকিৎসার মান কি খুবই খারাপ?

আমাদের বাংলাদেশে অনেক নামকরা চক্ষু বিশেষজ্ঞ আছেন।

সরকার নিজে যদি বিদেশে রোগী রেফার করেন তাহলে এই দেশের সাধারন মানুষ আমাদের ব্যাপারে কি মনভাব পোষণ করবেন?

বিএমএ-র বুলি সর্বস্ব নেতাদের কি এই কথা বলার মেরুদণ্ড নেই যে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত!?

সরকার নিজ থেকে বিদেশে রোগী রেফার করে কোন ধরনের দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঠিক বুঝে পেলাম না!

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

রিপোর্ট করার পূর্বে একটু বুঝেশুনে করা কি উচিৎ নয়?

15391068_10154324495293515_1760066700445813296_n

আয়রন ইনজেকশন পেয়ে যে রোগী মরে যেতে পারে সেটা এই সাংবাদিক ভাইয়ের রিপোর্টের মাধ্যমে জানলাম। আর শমরিতা হাসপাতালের বিরিদ্ধে অভিযোগটা দেখে আরও বিস্মিত হলাম। কারন এই হাসপাতালে আমি দেড় বছর কাজ করেছি এবং অনেক কিছু শিখেছি। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, এই দেড় বছরে একটি দিনও প্রফেশনাল নেগ্লেজেন্সি কিংবা ম্যাল প্র্যাকটিস নামক ব্যাপারটি লক্ষ্য করিনি। এই হাসপাতালের সিনিয়র এবং জুনিয়র চিকিৎসকদের সবাই দক্ষ এবং যেখানে প্রফেসার এম, এন, আলম এবং দ্বীন মোহাম্মদ রোগী দেখেন সেই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পূর্বে দুবার ভেবে দেখা উচিৎ।

বলে রাখা ভালো শমরিতা কোন ক্লিনিক নয়। এটা একটি হাসপাতাল।

রিপোর্টার সাহেব যে বলে দিলেন আয়রন ইনজেকশন দেবার জন্য রোগীর মৃত্যু হয়েছে সেটা কি উনি মেডিকেল লজিক দিয়ে প্রমান করতে পারবেন?

গর্ভাবস্থায় যদি কারো মাঝারি থেকে বেশী মাত্রার রক্ত শূন্যতা থাকে তাহলে তাদেরকে পাররেন্টাল আয়রন থেরাপী দেবার ইন্ডিকেশন আছে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকগণ আয়রন ডেক্সত্রানের চেয়ে আয়রন সুক্রোজকে বেশী প্রেফার করেন কারন আয়রন সুক্রোজে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার – হাইপারসেন্সিটিভিটির – মাত্রা ডেক্সত্রানের চেয়ে অনেক কম। আয়রন ডেক্সত্রানে ‘ডেক্সত্রান’ মোয়েটির জন্য হাইপারসেন্সিটিভিটি হয় আর তাই এটার ব্যবহার তেমন একটা হয় না বললেই চলে।

২০১৩ সালে NCBI-তে প্রকাশিত একটি স্টাডির মতে,

The all-event reporting rates for iron dextran, sodium ferric gluconate, and iron sucrose were 29.2, 10.5, and 4.2 reports per million 100mg dose equivalents,respectively, while the all-fatal-event reporting rates were 1.4, 0.6, and 0.0 reports per million 100mg dose equivalents, respectively. Iron sucrose appears to have a favorable safety profile and is an alternative to other forms of parenteral iron therapy in correction of depletion of iron stores. Rare anaphylactic reactions with iron sucrose have been reported in 0.002% of cases.

অর্থাৎ, আয়রন সুক্রোজে কোন ধরনের তীব্র পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, অ্যানাফাইলেকটিক রিএক্সনের রেট কম এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

আর কোন রোগীকে ওরাল আয়রন থেরাপী কিংবা ইঞ্জেক্সনের জন্য মৃত্যু বরণ করতে হলে তার রক্তে আয়রনের পরিমান ১০০০ মাইক্রোগ্রাম/ডিএলের ও বেশী হতে হবে যেটা আইভি থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসারত অবস্থায় হওয়াটা এক কথায় অসম্ভব ব্যাপার।

যিনি মারা গিয়েছেন তার রক্তশূন্যতার মাত্রা হয়ত এতটা বেশী ছিলো যে উনি এনিমিক হার্ট ফেইলরের ষ্টেজে চলে গিয়েছিলেন যেটা একটি ফাটাল কন্ডিশন এবং প্রেগন্যান্ট অবস্থায় এরকম কন্ডিশন গুলো খুবই ক্রিটিকাল এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশী থাকে। এখানে চিকিৎসকের ভুল কি করে হয় কিংবা ভুল মেডিসিন দেবার কারনে রোগীর মৃত্যু কিভাবে হয় সেটা বুঝতেই পারলাম না।

কোন রিপোর্ট করার পূর্বে একটু বুঝেশুনে করা কি উচিৎ নয়?

আপানদের কথা মতে চিকিৎসকরা ভুল করেন কিন্তু এই ভুল রিপোর্টটি করে আপনি কি নিজের পেশার প্রতি সুবিচার করেছেন?

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার