মুখে নোনতা ভাব

অনেক রোগী তার মুখে নোনতা ভাবের কমপ্লেইন করেন।

নিম্নলিখিত কারন গুলোর জন্য একজন মানুষের মুখে নোনতা ভাব আসতে পারেঃ

১। কোন ঔষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

২। শরীরে পানি স্বল্পতা।

৩। বেশী কাঁদলে মুখে নোনতা ভাব আসে কারন চখের পানি নেত্রনালী দিয়ে নাকের পথ ধরে গলার পেছনে ড্রেন করে আর তাই মুখে নোনতা ভাব আসে।

৪। সাইনাস ইনফেকশন এবং নাকের সর্দি। সর্দি মূলত মিউকাস যেটাতে লবনের উপস্থিতি আছে।

৫। এসিড রিফ্লাক্স অর্থাৎ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে।

৬। লালাগ্রন্থির কোন রোগ হলে।

৭। Gingival crevicular fluid মুখে আসলে অর্থাৎ মাড়ির কোন প্রদাহ হলে।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

Advertisements

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এবং স্থুলতার সম্পর্ক

10521326_10152381181393515_2750649457755445091_n

আমাদের খাদ্যনালী কিংবা Oseophagus-এর উপরের এবং নীচের দিকে দুটি আংটা থাকে যাকে বলা হয় Oesophageal sphincter. খাদ্যদ্রব্য মুখ থেকে নিচের দিকে নামার সময় এই আংটা দুটি ও খুলে যায় যেন তারা পাকস্থথলীতে পৌছাতে পারে।

এখন, খাদ্যনালীর নিচের দিকের আংটা পাকস্থথলীর এসিডিক মিডিয়া থেকেও খাদ্যনালীকে রক্ষা করে। কিন্তু শরীর মুটিয়ে গেলে এই নিচের আংটার চাপ (Intraoesophgeal Pressure) কমে যায়। এখন এই চাপ কমে গেলে, খাদ্যনালীর নিচের দিকের আংটা নিয়ম মতো বন্ধ হয় না এবং খোলা থাকে বেশ সময় নিয়ে। আর তখন পাকস্থথলীর এসিডিক মিডিয়া থেকে এসিড এবং এসিড-খাবারের মিশ্রণ এসে এই খাদ্যনালীর নিচের অংশে বানের জলের মত ধাক্কা দিতে থাকে আর তখন আমাদের ঝাল-ঢেঁকুর উঠে কিংবা বুক জ্বালাপোড়া করে।

এই জিনিস ক্রমাগত হতে থাকলে পাকস্থথলীর এসিডিক মিডিয়ার এসিড দিয়ে খাদ্যনালীর বেশ ক্ষতি হয় যার কারনে Barett’s Oseophagus নামক রোগ এবং Oesophageal adenocarcinoma-এর মত ক্যানন্সার ও হয়।

তাছাড়া, Obesity-তে পেটের চাপ (Intra-abdominal pressure) ও বেড়ে যায় যার জন্য পাকস্থথলীর এসিড মিডিয়া থেকে এসিড এবং খাবারের মিশ্রণ উপরের দিকে Reflux করে আর সেটা খাদ্যনালীর নিচের আংটা, যার চাপ কম থাকার জন্য খোলা থাকে, সেটা দিয়ে ওপরের দিকে Reflux করে। এতে অনেকটা ক্ষতিই হয়। কি ক্ষতি হতে পারে সেটা আগেই বলেছি।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানের জন্য শুধু ঔষুধ খেলে কিংবা ভাজা-পোড়া কম খেলেই হবে না। লাইফস্টাইলটাও হতে হবে ডাইনামিক। কোনক্রমেই নিজের শরীরে স্থুলতাকে বাসা বাঁধতে দেওয়া যাবে না। শরীরের ওজন বেড়ে গেলে অনেক জটিল রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। অতঃপর, নিজের শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন।

বিঃদ্রঃ এই লেখাটি ২০/০৯/২০১৫ তারিখে HealthnewsBD-তে (http://healthnewsbd.com/tips/3313)  প্রকাশিত হয়েছে

ধন্যবাদ
ফয়সাল সিজার