একজন রোগীকেও যথেষ্ট দায়িত্বশীল হতে হবে

image-25043

প্রথমত, বহির্বিভাগ এবং চেম্বারে রোগী ছাড়া শুধু রোগীর রিপোর্ট নিয়ে দেখাতে আসটা ঠিক নয়। রোগীর রিপোর্টে যদি উল্লেখযোগ্য কিছু থাকে তাহলে সেটা রোগীর সাথে ডিসকাস করা খুবই জরুরী। রোগীর অভিবাবকদের সাথে ডিসকাস করে কিন্তু কোন লাভ হয় না।

তারপর, রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যদি কোন মেডিসিন প্রেস্ক্রাইভ করতে হয় তাহলে অবশ্যই রোগী আরও একবার ভালোভাবে এক্সামিন করে এবং আরও একটু হিস্ট্রি নিয়ে সেটা প্রেস্ক্রাইভ করতে হয়। সেজন্য রোগীর উপস্থিত থাকটা খুবই জরুরী।

সর্বোপরি, একজন চিকিৎসক অনেক রোগী দেখেন। তার পক্ষে সব রোগীর কথা মনে রাখাটা সম্ভব নয়। সেজন্য রিপোর্টের সাথে, সাথে রোগীকেও নিয়ে আসবেন। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগীর লোক এই বলে অজুহাত দেয়, রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ তাই তাকে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি যেটি ডাহা মিথ্যা কথা। কারন রোগীর অবস্থা যদি খুব খারাপই হয় তাহলে তাকে বাসায় রাখার কোন মানেই হয় না।

রোগীদেরকে নিয়ে কখনও মিথ্যা কথা বলা উচিৎ নয়।

বহির্বিভাগে আমার সাথে কর্তব্যরত রেসিডেন্টদের আমি বলে দেই তারা যেন এই ধরনের রোগীর লোকদের রিপোর্ট গুলো না দেখে। কারন রোগী না দেখে কোন কিছু অ্যাডভাইস করলে পরবর্তীতে যদি রোগীর কিছু হয় তাহলে উল্টো তারাই বিপদে পড়বে।

এই দেশের লোক চিকিৎসা ঠিকই নিবে কিন্তু রোগীর পান থেকে চুন খসলে দাঁ-বটি নিয়ে চিকিৎসককে ঠিকই খুন করতে আসবে।

দ্বিতীয়ত, পাড়ার ফার্মেসী থেকে ব্লাডপ্রেশার মাপিয়ে আমাদের কাছে আসবেন না। এসব ফার্মেসীতে কর্তব্যরত ব্যক্তিগন চিকিৎসক নয় এবং হাইপারটেনশনের মেডিসিন বিক্রি করার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই তারা প্রেশার একটু বেশী বলেন যেন আপনি ভয় পেয়ে তার কাছ থেকে মেডিসিন কিনেন। ব্লাডপ্রেশার কিভাবে মাপতে হয় সেটা তারা জানে তো নাই বরঞ্চ ভুলভাল রিডিং দিয়ে রোগীকে বিভ্রান্ত করে।

একজন রোগীর ব্লাডপ্রেশারের রিডিং হাইপারটেনশন না থাকলেও বেশী আসতে পারে যেটা White Coat Hypertension নামে পরিচিত। এটা কিন্তু হাইপারটেনশন নয়। কিংবা ব্লাডপ্রেশার কখন কি কারনে ফ্লাকচুয়েট করে সেটি একজন দোকানদার কখনও বুঝতে পারবে না।

অতঃপর অযথা টাকা খরচ হবে এই কথা না ভেবে নিজের ব্লাডপ্রেশার সর্বদা একজন চিকিৎসক দিয়ে মাপাবেন। নিজের জীবনটা নিশ্চয় টাকার চেয়ে বেশী মূল্যবান নয়।

তৃতীয়ত, কোন মেডিসিন চলাকালীন সময়, ধূমপান, পান, জর্দা, অ্যালকোহল পরিহার করুন। কারন তামাক এবং অ্যালকোহল মেডিসিনের কাজে বাঁধা দেয়। এখন আমি মেডিসিন লিখে দিলাম কিন্তু আপনি আপনার বদভ্যাস ত্যাগ করলেন না তাহলে আমার এবং আপনার দুজনের পরিশ্রমই বৃথা।

অনেক রোগীই এসে বলেন, মেডিসিনে কাজ হচ্ছে না। তখন আমরা জিজ্ঞেস করি, আপনি আপনার বদভ্যাস ত্যাগ করেছেন কিনা? তখন উনারা হাসতে থাকেন। উনারা মনে করেন আমাদের অ্যাডভাইস করা মেডিসিনে উনারা ভালো হয়ে যাবেন এবং বীরের মতো ধূমপান, জর্দা এবং অ্যালকোহল পান করতে থাকবেন।

মেডিসিন রোগী সুস্থ করতে প্রেস্ক্রাইভ করা হয়, বদভ্যাস গুলোকে বৈধ করতে নয়।

পরিশেষে, আপনি যদি কোন চিকিৎসার ব্যাপারে দ্বিতীয় কোন অপিনিয়ন নিতে চান তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের অপিনিয়ন নিন। পাশের বাড়ির ভাই-ভাবী কিংবা বলদ আত্মীয়দের অপিনিয়ন নিয়ে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনবেন না।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s