ঈদ-উল-আযহাঃ হার্টের রোগীরা সাবধান!

ischemic-heart-diseaseppt-1-728-300x225রসনা বিলাস বাংলাদেশের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। মুখরোচক এবং মশলাদার খাবারের পরিবেশন না হলে বাংলাদেশের রসনা বিলাস ঠিক যেন জমে উঠে না। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশীদের রসনা বিলাসের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় যেটি হার্টের রোগী বিশেষ করে Iscahemic Heart Disease-এর রোগীদের জন্য অনেক দুর্ভোগ বয়ে আনে।

সাধারণত, হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী গুলো দিয়ে প্রবাহিত রক্তের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেলে Iscahemic Heart Disease রোগ হয়। আমাদের শরীরের রক্তে চর্বি কিংবা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে রক্তনালী গুলোতে এই চর্বি জমতে শুরু করে এবং একসময় রক্তের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। তখন রোগী বুকের মধ্যভাগ এবং বামদিকে চাপ এবং ব্যথা অনুভব করে। সময় মত সাবধান এবং চিকিৎসকের শরনাপন্ন না হলে Myocardial Infarction কিংবা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে।

এসব রোগীদের হৃদরোগের ঔষধ প্রেসক্রাইব করার সাথে, সাথে একজন চিকিৎসকের মূল লক্ষ্য থাকে রোগীর নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের দিকে। এসব রোগীদেরকে, ধূমপান, অ্যালকোহল, শরীরের ওজন কমানো, অতিমাত্রার মানসিক চাপ না নেওয়া এবং বিশেষ করে চর্বি জাতীয় খাদ্য যেমন – গরু এবং খাসির মাংস, ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয়, অধিক তেল, ঘি এবং মশলা দিয়ে রান্না করা খাবার পরিহার করতে বলা হয়।

আমরা যখন মুখরোচক খাদ্য খাই, তখন এদেরকে হজম করতে মানবদেহের অন্ত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশী মাত্রার রক্ত প্রবাহের দরকার হয়। শুধুমাত্র আন্ত্রিক রক্তনালী গুলো থেকে প্রবাহিত রক্ত এসব খাদ্য হজম করে পেরে উঠে না। আর তাই, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন, মস্তিক, হৃৎপিণ্ড এবং কিডনিতে সরবারাহকারি রক্তনালী গুলো থেকে রক্ত অন্ত্রে প্রাবাহিত হয় খাদ্যকে হজম করার জন্য।

এখন, একজন Iscahemic Heart Disease-এর রোগীর হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত প্রবাহ ক্ষনিকের জন্য ব্যহত হলে, তার Iscahemic Heart Disease-এর লক্ষন গুলো প্রকাশ পেতে থাকবে এবং কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।

কারন, এমনিতেই রোগীর রক্তনালী গুলো ব্লক থাকে এবং সেগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রন করাই হচ্ছে কার্ডিয়াক মেডিসিন দিয়ে। এখন যদি হৃৎপিণ্ডের রক্তনালী গুলো থেকে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক রক্ত ঐ মুখরোচক খাদ্যের হজমের জন্য চলে যায় তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই হৃৎপিণ্ড পরিমিত মাত্রায় রক্ত পাবে না এবং তখন হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষম পেশী গুলো রক্ত প্রবাহের অভাবে অকার্যকর হয়ে যায় এবং রোগী myocardial injury-এর শিকার হন।

আগামী ২৫/০৯/২০১৫ তারিখে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। স্বাভাবিক ভাবেই, কিছুদিন বাংলাদেশীদের খাবারের একটি বিরাট অংশ জুড়েই থাকবে গরু এবং খাসির মাংস দিয়ে রান্না করা আইটেম সহ বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার। কিন্তু আপনি যদি একজন Iscahemic Heart Disease-এর রোগী হন, তাহলে এসব খাবার পরিহার করাই উচিৎ হবে।

ঈদ মানে শুধু মুখরোচক খাবার খাওয়াই না। আপনি যে গরু কিংবা খাসি আল্লাহর নামে কোরবানি দিবেন, সেটি আত্মীয়স্বজন এবং গরীব দুঃখীর মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমে ও আপনি ঈদ পালনের মূল সার্থকতা খুঁজে পাবেন। “একদিন একটু খেলে কিছুই হবে না” – এরকম চিন্তার বশবর্তী হয়ে খুব বেশী পরিমানে যেন মুখরোচক খাবার না খেয়ে ফেলেন। আপনার একদিনের একটু শখ পূরণ করতে যেয়ে যেন আপনার পুরো পরিবারকে ভুগতে না হয়।

এই লেখাটি ২৩/০৯/২০১৫ তারিখে HealtnewsBD-তে (http://healthnewsbd.com/tips/3411) প্রকাশিত হয়েছে।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s