সুপার ম্যালেরিয়াঃ বাংলাদেশেরও সাবধান হওয়া উচিৎ

_97973440_c0093033-feeding_mosquito-spl

ম্যালেরিয়া রোগটির সাথে কম বেশী সবাই পরিচিত। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ২১ কোটি ২০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। রক্তচোষা মশার মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার ঘটে। এই রোগে শিশুদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।

ম্যালেরিয়া রোগ নিরাময়ে যে ওষুধটি প্রথম পছন্দ সেটি হলো- আরতেমিসিনিন। মূলত পাইপেরাকুইনের সমন্বয়ে এই ওষুধটি তৈরি হয়। গবেষকদের মতে এই ওষুধটি কম কার্যকরী হয়ে ওঠার পর ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী Plasmodium falcifrum এখন পাইপেরাকুইন প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। গবেষকেরা বলছেন, বর্তমানে এই ওষুধ ‘উল্লেখযোগ্য হারে ব্যর্থ’ হচ্ছে। PfKelc জিনের মিউটেশন আরতেমিসিনের এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী। এই মিউটেশনের জন্য উৎপত্তি হয়েছে সুপার ম্যালেরিয়ার।

এই ‘সুপার ম্যালেরিয়া’ হচ্ছে ম্যালেরিয়া জীবাণুর বিপজ্জনক সংস্করণ, যা ম্যালেরিয়া রোগ সারাতে বর্তমানে প্রচলিত প্রধান ওষুধে নিরাময়যোগ্য নয়।

Single dominant artemisinin-resistant P falciparum C580Y mutant lineage পশ্চিম ক্যাম্বোডিয়ায় প্রথম দেখা যায়। ক্যাম্বোডিয়াতে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা হিসেবে dihydroartemisinin-piperaquine  ফার্স্ট লাইন ট্রিটমেন্ট ছিলো কিন্তু পরবর্তীতে artesunate-mefloquine-এ সিস্ফট করতে বাধ্য হয়।  এই dominant multidrug-resistant parasite lineage, PfPailin হিসেবে ক্যাম্বোডিয়ার পালিনে দেখা দেয় কিন্তু পরবর্তীতে এর জীবাণু থাইল্যান্ড, লাওস ও ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

***

ব্যাংককে অক্সফোর্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন রিসার্চ ইউনিটের একটি দল জানিয়েছে, ম্যালেরিয়া যদি অনিরামযোগ্য হয়ে পড়ে তাহলে সেটি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে।

দলের প্রধান অধ্যাপক আরজেন ডনড্রপ বিবিসিকে বলেছেন, “আমাদের মনে হয় এটা মারাত্মক হুমকি। এমনভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ছে যে আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে এটি বিস্তার লাভ করে আফ্রিকা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে”।

অধ্যাপক ডনডোর্প বলছেন “এটা ঘড়ির বিপরীতে একটি প্রতিযোগিতা। ম্যালেরিয়া পুনরায় অনিরাময়যোগ্য হয়ে ওঠার আগেই এই রোগের জীবাণু আমাদের নির্মূল করতে হবে। তা না হলে বহু মানুষ মারা যাবে”।

ট্রাস্ট মেডিকেল রিসার্চ চ্যারিটির মাইকেল চিউ বলছেন “ম্যালেরিয়া সুপারবাগ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি খুব বিপজ্জনক, বিশ্বের জনস্বাস্থ্যের হুমকি”।

“ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর সংক্রমণে প্রতি বছর প্রায় সাত লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। আর এখনই যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয়া যায় তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর কয়েক লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে”।

অধ্যাপক ডনড্রোপ বলছেন, ভিয়েতনামে এই রোগ নিরাময়ে ব্যর্থতার হার এক-তৃতীয়াংশ, আর ক্যাম্বোডিয়ায় ৬০ শতাংশ।

আর এই রোগের জীবাণু আফ্রিকায় বিপর্যয় তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের, কারণ ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্তদের মধ্যে ৯২ শতাংশই আফ্রিকার।

***

বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের ১৩টি জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকপে বেশী। পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবন এলাকায় ৮০% ম্যালেরিয়ার রোগীর আবির্ভাব ঘটে। বাংলাদেশের মত জনসংখ্যার ১৩.৫ মিলিয়ন লোক ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে আছেন। কিন্তু ইদানিং ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পদক্ষেপ বেশ সন্তোষজনক এবং বিগত বছরের তুলনায় আমাদের দেশে ম্যালেরিয়া মৃত্যুহার অনেক কম।

কিন্তু বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটের এই মুহূর্তে ম্যালেরিয়া বিশেষ করে সুপার ম্যালেরিয়ার আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সুপার ম্যালেরিয়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে বেশী ছড়াচ্ছে এবং মিয়ানমার দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত। মিয়ানমার ম্যালেরিয়া রোগের বিবেচনায় মোডারেট রিস্ক জোনের দেশ। এখানকার রোগীরা Chloroquine এবং mefloquine রেসিসট্যান্ট।  P. falciparum  শতকরা ৬০ ভাগ এবং  P. Vivax শতকরা  ৩৫ ভাগ ক্ষেত্রে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটায়। রেঙ্গুন এবং ম্যানডেলেতে ম্যালেরিয়ার রিস্ক কম তবে আরাকান অঞ্চলে এটা অনেকটা মহামারির ন্যায় উপস্থিত হয়েছে কয়েকবার।

২০০৯ সালেও এখানে ম্যালেরিয়া একদম জেঁকে বসেছিলো এবং সেটার ফলাফল খুব সুবিধের ছিলো না। ২০০৬ সালেও একই ঘটনা ঘটে যখন মিয়ানমার সরকার তাদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে অপারগ ছিলেন।

বর্তমানে যেসব রোহিঙ্গা এসেছে তাদের বেশীরভাগ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এবং তাদের মধ্যে কতজন ম্যালেরিয়া (সুপার) রোগে আক্রান্ত সেটা আমরা জানি না। যদি এদের মধ্যে সুপার ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী থাকে তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।আর যেখানে এই রোগ নির্ণয় করার পদ্ধতি এখনও সঠিক ভাবে কেউ আয়ত্ত করতে পারেনি সেখানে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আসলেই কোন সুপার ম্যালেরিয়ার রোগী আছে না নেই সেটা খুজে বের করাও কঠিন কাজ।

***

বাংলাদেশ চিকুনগুনিয়ে থেকে কেবল মাত্র লড়াই করে উঠে দাঁড়িয়েছে এখন যদি এই সুপার ম্যালেরিয়া নামক আপদ এসে উদয় হয় তাহলে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে সুপার ম্যালেরিয়া নেই এটা বলে মনকে সন্তনা দিয়ে দিলাম কিন্তু কোন আশংকা কি উড়িয়ে দেওয়া যায়?

তথ্য সংগ্রহঃ Lancet Infectious Disease, BBC, Malaria in Arakan State article, Getty Images, Malaria epidemiology in central Myanmar: identification of a multi-species asymptomatic reservoir of infection – BioMed Central Malaria Journal.

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

Advertisements

নিজের কিছু কথা

২০০৯ সালে আমি পুরো বেকার। একজন এমবিবিএস পাশ করা চিকিৎসক হয়েও আমি যে বেকার এটা কাউকে বলতেও পারছি না আবার নিজের কাছে হজম করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছিলো। ট্রেনিং করছি এবং চাকরি খুঁজছি কিন্তু ক্লিনিক গুলো বলে, কোন ট্রেনিং সার্টিফিকেট থাকলে ভালো হতো। এরা পরোক্ষ ভাবে না করে দিতে থাকলো।

পরের বছর প্রায় এক বছরের ‘অনহারির’ সার্টিফিকেট যোগার করে আবার চাকরি খুজতে বের হলাম। এবার স্কয়ার, সেন্ট্রাল, ল্যাব এইড এবং ধানমণ্ডি-৮ এবং সোবহানবাগের একটি ক্লিনিকে অ্যাপ্লাই করলাম। ওরে বাবা, এদের দরকার কোর্সে থাকা কিংবা পার্ট ওয়ান করা চিকিৎসক। ‘অনাহারি কাগজ দিয়ে হবে না। এতদিনে একটি কোর্স এবং পার্ট ওয়ান না থাকার জন্য ধানমণ্ডি-৮ এবং সোবহানবাগের নন-মেডিকেল এমডি যা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছিলো সেটা আজও মনে আছে।

এরপর আরও বাজে ক্লিনিকে অ্যাপালই করলাম কিন্তু সেখান থেকেও বিতাড়িত হয়ে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটা শুরু করেছিলাম। হাঁটতে, হাঁটতে ভাবলাম বাসায় যেয়ে সার্টিফিকেট গুলো ছিড়ে ফেলব। ভাই এখন, কবরস্তানের ন্যায় ক্লিনিকেও চাকরি না হওয়াটা একটা বড় অপমান। এত অপমানিত না হবার চেয়ে সার্টিফিকেট গুলো ছিড়ে ফেললেই ভালো হয়।

***

আশেপাশের সবার অবস্থান ভালো। সবাই চাকরি করছে। এফসিপিএস পার্ট ওয়ান করে ভালো জায়গায় ট্রেনিং করছে কিংবা এমডি/এমএস কোর্স জুটিয়ে দিব্বি দিন পার করছে। এদিকে আমি দিনের পর দিন পিছিয়ে যাচ্ছি। বাসা থেকে পরীক্ষার ফিস নিতে, নিতে বাসাও বিরক্ত কারন আমি তো কোথাও চান্স পাচ্ছি না। তাদের বিরক্ত হওয়াটা যুক্তিসঙ্গত। এরকম ফ্লপ মাস্টারকে দুই একবার সহ্য করা যায়। বারবার নয়। ওদিকে পেছাতে, পেছাতে সব বন্ধুও হারাতে থাকলাম। একজন বেকার হয়ে প্রতিষ্ঠিত বন্ধুদের সাথে মিশতে মন চাইত না। ধীরে, ধীরে আমাকে পেয়ে বসল অবসাদগ্রস্থতা।

এরপর একদিন এক নেতা যখন নিজের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কানাডা প্রবাসী এক মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তখন নিজেকে এত ছোট এবং ফেলনা মনে হতে লাগলো যে আমি আরও হতাশায় ভুগতে থাকলাম। হ্যাঁ, একটু সুবিধা লাভের আশায় কিছু নেতার কাছে যে ধন্যা দেইনি তা নয় তবে এই ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ আর সেদিন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম চিকিৎসা লাইন ছেড়ে দেব আর যা করার নিজেই করব। যাই করি না কেন, আমি কারও পেছনে ঘুরব না।  চিকিৎসা লাইনে থাকলেও না। আমি কষ্ট পেলেও কারও পেছনে ঘুরব না।

***

২০১০-এর মার্চের দিকে ছোটভাই রিয়াজের বদান্যতায় মাত্র ৫০০০ টাকার একটি চাকরি জোগাড় করলাম। সারাদিন একটি ক্লিনিকে ওয়াচ ডগ হয়ে থাকতে হবে। বাসা থেকে ভাত নিয়ে যেতাম এবং সেটা দুপুরে এবং রাতে ভাগ করে খেতাম। রাতে মশারি শরীরে জড়িয়ে ঘুমতাম। কোন কোন দিন রাতে ঘুমাতে পারতাম না। কারন মশক বাহিনীর আক্রমন সামলাতে, সামলাতে ভোর হয়ে যেত। যেদিন পাঁচ হাজার টাকা  হাতে আসত সেদিন মনে হত ঈদ। মাসের ঐদিন বাইরে ভালো কিছু খেতে পারতাম। কিন্তু এটা তো জীবন হতে পারে না। স্বপ্ন পূরণ করতে হলে এই চিকিৎসা লাইন আর নয়। এটা ছেড়ে দেবার চিন্তা করেছি। কিন্তু অনেক বছর কষ্ট করার পর অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। দুঃখ হয় সেই সময় গুলোর জন্য যেটা ছিল ক্যারিয়ার গড়ার সুবর্ণ সময়। আমি তো পিছিয়ে গিয়েছি।

***

ছেলেপেলে ২৩০০০ টাকার বেতন স্কেল নিয়ে কত আলোচনা করে কিন্তু কখনও এসব বেসরকারি ক্লিনিক এবং হাসপাতাল গুলোর বেতন স্কেল নিয়ে কথা বলে না। এখানকার কর্মরত চিকিৎসকদের অবস্থা কতাটা করুন সেটা কেউই বুঝবে না।   সবাই পড়ে আছে সরকারি নিয়ে। এরা ভুলে যায়, এসব ক্লিনিকের মালিক গুলো নন-মেডিকেল এবং এদের সাথে অন্যান্য সাধারন ক্যাডারদের ভালো যোগাযোগ আছে। এরা এসব মালিকদের কাছ থেকে চিকিৎসক সম্পর্কে খুবই বাজে ধারনা নেয় এবং সেটার প্রভাব সব জায়গায় পড়ে। বেসরকারি হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ সরকারির চেয়ে বেশী। এটার পেস্কেল এবং চিকিৎসকদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত অনেক কিছুর সুষ্ঠু সমাধান হবে না।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

মুখে নোনতা ভাব

অনেক রোগী তার মুখে নোনতা ভাবের কমপ্লেইন করেন।

নিম্নলিখিত কারন গুলোর জন্য একজন মানুষের মুখে নোনতা ভাব আসতে পারেঃ

১। কোন ঔষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

২। শরীরে পানি স্বল্পতা।

৩। বেশী কাঁদলে মুখে নোনতা ভাব আসে কারন চখের পানি নেত্রনালী দিয়ে নাকের পথ ধরে গলার পেছনে ড্রেন করে আর তাই মুখে নোনতা ভাব আসে।

৪। সাইনাস ইনফেকশন এবং নাকের সর্দি। সর্দি মূলত মিউকাস যেটাতে লবনের উপস্থিতি আছে।

৫। এসিড রিফ্লাক্স অর্থাৎ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে।

৬। লালাগ্রন্থির কোন রোগ হলে।

৭। Gingival crevicular fluid মুখে আসলে অর্থাৎ মাড়ির কোন প্রদাহ হলে।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

চলে গেলো শহীদ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৫০ তম ব্যাচের ছাত্র শহিদুল ইসলাম শহীদ আজ সকালে ওয়ার্ডএ ক্লাস করার সময় হঠাৎ কার্ডিয়াক এরেস্টে চলে হয়। কিছুক্ষন পরই জানা যায় শহীদ এই দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছে। ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি  রাজিউন। মহান আল্লাহ পাক শহীদকে জান্নাতবাসী করুক এবং তার পরিবার পরিজনকে এই আঘাত সহ্য করার শক্তি দান করুক।

২৪ বছরের একটি ছেলের যে কার্ডিয়াক এরেস্ট হতে পারে ঠিক মেনে নিতে পারছি না।  আমি জানি না শহীদের লাইফ স্টাইল কিংবা খাদ্যাভ্যাস কেমন ছিলো কিন্তু মনে হচ্ছে তার জীবনে অনেক স্ট্রেস ছিলো। এই স্ট্রেস তার কার্ডিয়াক হেলথে অনেক প্রভাব ফেলে এবং যেটার পরিনতি ভালো হয়নি। আর যদি সে হার্টের ভাল্বের (বিশেষ করে অ্যাওরটিক ভাল্বের পথ সরু হওয়া) রোগে আক্রান্ত কিংবা জন্মগত কোন ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে এরকমটি হওয়া অস্বাভাবিক কিছুই নয়।

এই যুগে তরুনদের মধ্যে হৃদরোগ হওয়াটা অসম্ভব নয়।

বর্তমান যুগের ‘কুল’ ছেলেপেলেরা ব্রেনের উপর অনেক প্রেশার দিলেও শারীরিক কসরত থেকে অনেক দূরে থাকে। জাঙ্ক ফুড নির্ভর এই জেনারেশন যা খায় সেটা খরচ করে না। অনেকে বলেন মেডিকেল সাইন্স পড়লে কায়িক পরিশ্রম করার সুযোগ থাকে না কিন্তু ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। যেমনঃ আমি প্রতিদিন হাঁটার সাথে, সাথে বিএসএমইমিউ-এর মেডিসিন বিভাগে ১৬ তলায় উঠতে লিফট খুব কম ব্যবহার করি এবং সিঁড়ি ভেঙ্গে ১৬ তলায় উঠি। সপ্তাহের ছয়দিনের মধ্যে তিন থেকে চারদিন ১৬ তলা সিঁড়ি ভাঙ্গলে মনে হয় ক্যালোরির খরচ ভালোই হচ্ছে এবং শরীর ঠিক আছে।

স্ট্রেসফুল এই যুগে, ২৪ কিংবা ২৫ বছর বয়স হলেই একটি মেডিকেল চেকাপের মধ্যে থাকা উচিৎ। বিশেষ করে বাংলাদেশী তরুন তরুণীদের জন্য এটা আবশ্যক।

পুষ্টিকর খাদ্যের প্রতি অনীহা, ভালো ফিগার তৈরির নামে ডায়েটিং, বডি বিলডিং-এর নামে স্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করে স্টেরয়েড নেওয়া, আধুনিকতার নামে পাগলা পানি পান, ইয়াবা এবং নেশায় আসক্তি, অকারনে রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় অতিবাহিত করা, প্রেম করা, প্রেম-ময় জীবনের হতাশা বিলাস, সারাদিন মেয়ে-মেয়ে করে সুন্দর জীবনকে বেশী স্ট্রেসফুল করা এবং নিজে কোন চেষ্টা না করে অযথা হতাশায় ভোগা ইত্যাদির জন্য এই জেনারেশনের অবশ্যই ২৫ বছরের পরপরই শারীরিক চেকাপ করা উচিৎ।

এই যুগে অল্প বয়সেই ছেলেপেলেরা হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে? এই যুগের ছেলেপেলেরা অলস এবং নিজেদেরকে কুল প্রমান করতে অযথা স্ট্রেস বেশী নিচ্ছে। আমাদের যুগে কুল হওয়া হারিয়ে যেত হয় মা না হয় বাবার মাইরের চোটে। এই কুল নামক অপদার্থদের ও মাইর দরকার। কঠিন মাইর। কোন ফালতু মোটিভেশন স্পিচ দিয়ে হবে না। না হলে বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মকে সঠিক পথে ফেরানো সম্ভব না।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

মেয়র আনিসুল হকের সেরেব্রাল ভাস্কুলাইটিস

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহজনিত রোগ ধরা পড়েছে। তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  তবে তাঁর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। দোয়া করি উনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক।

আসল কথায় আসি। পত্রিকা মারফত জানতে পারলাম, আমাদের দেশের চিকিৎসকগন মেয়রের রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারেননি। হুম, মেজাজটা একটু খারাপ হয়ে গেলো এবং আমি প্রথম আলো ব্রাউস করে পুরো নিউজটি পড়তে লাগলাম। নিউজটি পড়ে খুব আশ্চর্য হলাম যে, অধ্যাপক দ্বীন মোহাম্মদের এই বাংলাদেশে মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহজনিত রোগ অথবা সেরেব্রাল ভাস্কুলাইটিস এই দেশের কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ধরতে পারেনি এবং এটা হতেই পারে না।

সেরেব্রাল ভাস্কুলাইটিস রোগটি জটিল এবং সঠিকভাবে এই রোগ ডায়াগনোসিস করতে অন্যান্য পরীক্ষা যেমন রুটিন টেস্টের সাথে সেরেব্রাল এঞ্জিওগ্রাম, ব্রেনের এমআরাই এবং ব্রেনের বায়পসি উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে সেরেব্রাল এঞ্জিওগ্রাম খুবই সেন্সিটিভ একটি পরীক্ষা এবং বাংলাদেশেড় বিএসএমএমইউ-এর নিউরলোজি এবং নিউরোসার্জারি বিভাগ এই পরীক্ষাটি রুটিনলি করে যাচ্ছেন। সে হিসেবে, মেয়র আনিসুল হকের সেরেব্রাল ভাস্কুলাইটিস রোগটির সঠিক নিরূপণ না হবার খবরটি হজম করতে কষ্ট হচ্ছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আনিসুল হক রাজধানীর একাধিক বড় হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছিলেন। কিন্তু রোগটি শনাক্ত করা যায়নি।

আমি জানি না মেয়র সাহেব কোন, কোন বড় হাসপাতালে এই ব্যাপারে দেখিয়েছেন এবং তার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কারা ছিলেন তবে আমার মনে হয়, এদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিশ্চয়ই উনাকে সেরেব্রাল এঞ্জিওগ্রাম করার পরামর্শ দিয়েছিলেন যেটা হয়ত উনি বিলেত থেকে ফিরে এসে এখানেই করাতেন।

অতঃপর, আমি মনাতে রাজি নই যে মেয়র সাহেবের রোগটি এদেশের কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভালোভাবে ধরতে পারেনি। কারন যে দেশে প্রেফসর দ্বীন মোহাম্মদ এবং তার লেগেসি আছে সে দেশে একটি সেরেব্রাল ভাস্কুলাইটিস রোগের ডায়াগনোসিস করার সামর্থ্য চিকিৎসকদের আছে। বাংলাদেশের একজন এমডি। এমএস এবং এফসিপিএসের স্টুডেন্ট ও অনেক বড় রোগ শুধু হিস্টোরি নিয়ে ধরতে পারে। আর একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই রোগ ধরতে পারবে না? বিশ্বাস করলাম না……

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

সর্বাঙ্গে ব্যথা

open-uri20120831-9415-wgsvgm

সমগ্র শরীরে ব্যথার খুব কম কিছু কারনঃ

১। অতিরিক্ত স্ট্রেস এবং দুশ্চিন্তা।

২। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।

৩। শরীরে পানি শূন্যতা।

৪। ঠাণ্ডা জ্বর অথবা ফ্লু।

৫। রক্তশূন্যতা

৬। ভিটামিন ডি এর অভাব।

৭। ইনফেকসাস মনোনিউক্লিওসিস নামক একটি সংক্রামক রোগ।

৮। নিউমোনিয়া।

৯। ফাইব্রোমাইয়ালজিয়া নামক একটি সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডার।

১০। ক্রনিক  ফ্যাটিগ সিনড্রোম অথবা ক্লন্তিজনিত সমস্যা।

১১। অার্থাট্রাইটিস।

১২। লুপাস ডিসিস।

১৩। লাইম ডিসিস।

১৪। হিস্টোপ্লাসমোসিস।

১৫। মাল্টিপেল স্ক্লেরোসিস।

১ থেকে ১০ পর্যন্ত যে কারন গুলো বলা হয়েছে, আমার মনে হয়, অনেকেই সেগুলোর কোন না কোন একটি কারনের জন্য সমগ্র শরীরে ব্যথা অনুভব করেছেন। বিশেষ করে অনেকেই স্ট্রেস, অপর্যাপ্ত ঘুম,   ফাইব্রোমাইয়ালজিয়া, রক্তশূন্যতা কিংবা ভিটামিন ডি এর অভাবে এই দেশের বেশীরভাগ লোক সর্বাঙ্গে  ব্যথা অনুভব করেই থাকেন।

অনেকেই সর্বাঙ্গের ব্যথাকে গুরুত্ব দেন না এবং কোন চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে পরিচিত নন-মেডিকেল পার্সনদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেন কিন্তু একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞর কাছে যাবার প্রয়োজন অনুভব করেন না।

আপনি নিজের শরীরকে অবহেলা করলেন এবং এমনও তো হতে পারে আপনি ১১ থেকে ১৫ পর্যন্ত কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আবার, উল্লেখিত ১ থেকে ১০ পর্যন্ত কারন গুলো একদমই অবহেলা কারার মতো নয়। বিশেষ করে, ফাইব্রোমাইয়ালজিয়া,  মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা এবং ক্লান্তি জনিত কারন গুলোকে একটু ও অবহেলা করবেন না। এগুলো পুষে রাখলে বড় ধরনের সেগুলো কোন মানসিক ব্যধি রূপে আবির্ভূত হতে পারে।

শরীরের কোন লক্ষনকে হালকা ভাবে নিবেন না।

বিএমডিসি থেকে রেজিস্টার্ড প্রাপ্ত একজন চিকিৎসকের সাথে সর্বদা যোগাযোগ করবেন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

মুক্তামনির অপারেশনের প্রাথমিক ধাপ সফল ভাবে সম্পন্ন

full_1471523268_1501921598

সাতক্ষীরার ১১ বছরের মেয়ে মুক্তামনি বিরল লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হন। এটি একটি জন্মগত রোগ (কনজিনেটাল ডিজিস)। এই রোগের বিশেষত্ব হচ্ছে জন্মের পরপরই কিছু ক্ষেত্রে এই এর প্রকাশ কারও ক্ষেত্রে পায়, কারও ক্ষেত্রে পায় না। মুক্তামনিরটা প্রকাশ পেয়েছে তার জন্মের দেড় বছর পর।

আজ সকাল পৌনে নয়টার দিকে মুক্তামনির ডান হাতের অপারেশন হয়। অক্ষত রেখেই মুক্তামণির ডান হাত থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। জ্ঞান ফিরে এসেছে মুক্তামণির। তাঁকে হাসপাতালের আইসিইতে রাখা হয়েছে।

মিডিয়াকে ব্রিফিংয়ের সময় মেডিকেল টিমের ২০ থেকে ২২ জন উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষ করে বার্ন ইউনিটের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবুল কালাম অস্ত্রোপচারের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, ডান হাত অক্ষত রাখা হয়েছে। অস্ত্রোপচার প্রাথমিকভাবে সফল। তবে তাঁকে ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না। কারণ, তার ফুসফুসের সমস্যাসহ অন্যান্য জটিলতা রয়েছে। টিউমার শরীরের অনেক জায়গায় ছড়িয়েছিল। হাতের অংশটুকু বেশি খারাপ অবস্থায় ছিল। ওটা আজ অপসারণ করা হয়েছে। অপসারিত টিউমারটির ওজন প্রায় তিন কেজি।

মুক্তামণির শরীর থেকে সব টিউমার সরাতে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি অস্ত্রোপচার লাগবে বলে জানান অধ্যাপক আবুল কালাম। ওর শারীরিক অবস্থা বুঝে পরবর্তী অস্ত্রোপচারের সময় ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে মুক্তামণিকে। যেদিন ও বাড়িতে ফিরতে পারবে, সেদিন আমরা বলতে পারব ও ঝুঁকিমুক্ত”।

ব্রিফিংয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, এই সফলতা সম্মিলিত উদ্যোগ। সবার প্রচেষ্টার ফলে আজকে প্রাথমিকভাবে সফল হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, মুক্তামনির রোগটি নিয়ে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বোর্ড মিটিং করেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা এবং তারা পরবর্তীতে জানিয়েছিল এ রোগটি ভালো হবার নয় ও সেটি অস্ত্রোপচার করার মতোও নয়। এ পর্যবেক্ষণ জানার পর গত ০২ আগস্ট ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সভায় ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সকল ধরনের সর্তকতা অবলম্বন করে বায়োপসি করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

এত জটিল একটি অপারেশনের প্রাথমিক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশী চিকিৎসকদের অভিনন্দন। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। আশা করি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিকেল টিম মুক্তামনিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

 

 

বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বলকারী চিকিৎসকের নাম এ আর এন এম হাসিবুল হক লিমন

20728109_1604640039586783_9020938485098517811_n

ডা. এ আর এন এম হাসিবুল হক লিমন।  পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর গ্রামে। বাবা প্রকৌশলী নুরুল হক ও মা ইসমাত আরা জাহান। তাঁরা ঢাকার পূর্ব কাফরুলে থাকেন। লিমন ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। অস্ট্রেলিয়ার রয়াল অস্ট্রেলেশিয়ান কলেজ অব ফিজিশিয়ান থেকে এফআরএসিপি পাস করেন ২০১২ সালে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ব্রোকেন হিল হেলথ সার্ভিসে কনসালট্যান্ট চিকিৎসক ও জেরিয়াট্রিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন তিনি। ২০০৭ সালে তিনি ক্যানবেরা হাসপাতালে শ্রেষ্ঠ রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার হিসেবেও পুরস্কৃত হয়েছিলেন। তাঁর সহধর্মিণী ডা. শাতিলা জাফরীন একই হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

গত ৪ আগস্ট শুক্রবার চিকিৎসা সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য আবারও পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের পশ্চিম স্থানীয় জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যসেবায় শ্রেষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

ডাঃ লিমন কি এই দেশে তার যোগ্য সম্মান পেত? আমার মনে হয় না। কোন উপজেলায় পোস্টিং হলে হয় মার খেত না হয় বদলি এবং কুচক্রিদের চক্করে পড়ে বিলীন হয়ে যেত। একটু পূর্বে আমি বলেছিলাম এই দেশে ভালো চিকিৎসকদের অভাব নেই কিন্তু তাদেরকে সম্মান দেবার লোকের অভাব।

নীল ক্ষেত কিংবা আজিজের মেডিকেল বুক স্টোর গুলোতে দাঁড়ালে দেখা যায়, ছাত্রছাত্রীরা এমডি/এফসিপিএস-এর বই আর কিনছে না। বরং তারা এমআরসিপি, এএমসি এবং ইউএসএমইলি-এর বই বেশী কিনছে। তাদের ধারনা, এই দেশে তারা সম্মনা পাবে না যেটা বিদেশে পাবে। তারা তাদের কাজের স্বীকৃতি চায়। পড়ে, পড়ে মার খেতে চায় না। কুচক্রিদের খপ্পরেও পড়তে চায় না।

আমাদের প্রতিভা গুলো বিদেশে চলে যাচ্ছে।

এটা ভালো লক্ষন নয়।

এই ব্যর্থতা আমাদের সকলের।

 

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

ডাঃ সায়েবা আখতারঃ বাংলাদেশের গর্ব

1502431572কেনিয়ার গণমাধ্যম তাদের গাইনি এবং অবস বিশেষজ্ঞ অ্যানি মুঞ্জেলা নিয়ে নিউজ করেছে বলে বিবিসি সেটা হাইলাইট করতে বাদ্ধ হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যম ভিনদেশের একটি হাতিকে অনেক গুরুত্ব সহকারে খবরের বিষয় বস্তু  করলেও তাদের নিজস্ব প্রতিভাকে বেমালুম ভুলে যায় এবং প্রতিভাটি যদি চিকিৎসক সমাজের হয় তাহলে তো তাকে প্রচার করার তাগিদটা এই দেশের মিডিয়ার একদমই থাকে না।

ভাগ্য ভালো এটা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। তা না হলে আমরা হয়ত অধ্যাপিকা সায়েবা আখতারকে চিনতামই না। আমার মেডিকেল পেইজে সেই চার তারিখ থেকে ম্যাডাম সায়েবাকে নিয়ে পোস্ট দিয়েই যাচ্ছি কিন্তু আমার টাইমলাইনে একজন কি দুজন বাদে আর কোন নন-মেডিকেল কোন পার্সনই ম্যাডামকে নিয়ে পোস্ট দেননি। কিন্তু চিকিৎসকদের সমালোচনা করার বেলায় উনারা সবার আগে গলা বাড়িয়ে দেন। আর হ্যাঁ, কার্ডিয়াক স্টেন্ট, চিকিৎসকদের অবহেলা, চিকিৎসকদের ব্যবহার নিয়ে ঘেউ, ঘেউ করা লোক গুলো চুপ।

আজকে ম্যাডামকে নিয়ে একটু ডিটেইলসে পোস্ট দেবো।

৩০-৪০ বছর আগেও বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল অনেক বেশি। এর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল প্রসব পরবর্তী রক্তপাত।

ডা: না‌জিরুম মু‌বিন লি‌খে‌ছেন,  চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় পোস্ট পারটাম হেমোরেজ বা পিপিএইচ। পিপিএইচের চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল বেশ ব্যয়বহুল। বাংলাদেশসহ অন্যান্য অনুন্নত দেশের জনগণের জন্য যা বহন করা সম্ভব ছিল না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যেত মায়েরা সন্তান জন্মদানের সময় মারা যেত। মৃত মায়ের সন্তানরাও বেশিদিন বাঁচত না। কখনো কখনো মাকে বাঁচাতে গিয়ে জরায়ু কেটে ফেলে দিতে হতো। সেক্ষেত্রে ওই মহিলা চিরদিনের জন্য মা হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো।

ভয়াবহ এই চিত্রটি ২০০০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. সায়েবা আকতার ম্যাডামকে খুব ভাবিয়েছিল। ম্যাডাম পিপিএইচের জন্য স্বল্প খরচে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজছিলেন। রক্তপাত বন্ধের প্রধান উপায় হলো প্রেশার বা চাপ দেয়া। কোন ভাবে জরায়ুর ভেতরে কোন কিছু দিয়ে চাপ দিলে হয়তোবা রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু চাইলেই তো যেকোন বস্তু মানবদেহের ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না। স্টেরিলিটির ব্যাপার আছে। মেডিকেল ইথিক্সের ব্যাপার আছে।

হঠাৎ ম্যাডামের মনে হলো বাচ্চারা তো ফ্যামিলি প্ল্যানিং এর ফ্রি কনডম দিয়ে বেলুন বানিয়ে খেলে। কনডম একটা এফডিএ অনুমোদিত মেডিকেল ডিভাইস। ম্যাডাম কনডমের ভিতরে পানি ঢুকিয়ে এর স্থিতিস্থাপকতা পরীক্ষা করলেন। এটা জরায়ুর ভেতরে প্রবেশ করিয়ে যদি পানি দেয়া যায় তাহলে একসময় সেটা জরায়ুর দেয়ালে চাপ দিবে ফলে রক্তপাত বন্ধ হবে।

ম্যাডাম পরের দিন সকালে অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে দেখেন একজন মহিলাকে টোটাল হিস্টেরেকটমির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। অর্থাৎ তার জরায়ু কেটে ফেলে দেয়া হবে। কারণ তার প্রসব পরবর্তী রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। ম্যাডাম তখন প্রথমবারের মতো কনডম টেম্পোনেড ব্যবহার করলেন। আশ্চর্যজনকভাবে ১৫ মিনিটের মধ্যেই রক্তপাত বন্ধ হয়েছিল। রোগিটি তার জরায়ুসহ সুস্থভাবে বাড়ি ফিরেছিল।

২০০১-২০০২ সাল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অধ্যাপক ডা. সায়েবা আকতারের নেতৃত্বে ২৩ জন রোগিকে এই চিকিৎসা দেয়া হয় এবং তাদের প্রত্যেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন।

২০০৩ সালে ম্যাডামের এই আবিষ্কার ও গবেষণা কর্মটি মেডস্কেপ মেডিকেল জার্নালে“Use of condom in the control of massive postpartum hemorrhage. Medscape General Medicine 2003; 5(3): 38. শিরোনামে প্রথম পাবলিশ হয়। পরবর্তীতে এটি অরিজিনাল রিসার্চ পেপার হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব গাইনি অ্যান্ড অবসেও পাবলিশ হয়।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে রিভিউ আর্টিকেল হিসেবে পাবলিশ হয়। বিশ্বজুড়ে এটি সায়েবা’স মেথড হিসেবে পরিচিতি পায়।

আন্তর্জাতিক জার্নালে পাবলিশ হওয়ার পর বিভিন্ন দেশে ম্যাডামকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় সায়েবা’স মেথড সম্পর্কে তাদের দেশের ডাক্তারদের প্রশিক্ষিত করার জন্য। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ম্যাডামের এই মেথড নিয়ে এফসিপিএস ডিজার্টেশন, এমএস থিসিস, পিএইচডি থিসিস হয়েছে। ম্যাডামকে রয়্যাল কলেজ অব অবস অ্যান্ড গাইনোকলজিস্ট থেকে অনারারি ফেলোশিপও দেয়া হয়েছে।

অথচ গত ২ তারিখ বিবিসি একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করে। সেখানে দেখানো হয় অ্যানি মুঞ্জেলা নামে কেনিয়ার একজন মিডওয়াইফ কনডম দিয়ে প্রসব পরবর্তী রক্তপাত বন্ধ করছেন। তিনি তার ক্লিনিকে এই পদ্ধতিতে ৬ জন মায়ের জীবন বাঁচিয়েছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে অনুন্নত দেশগুলোর আরো অনেক মায়ের জীবন বাঁচবে বলে আশা করা হয়। বাংলা‌দে‌শের ক‌য়েক‌টি প‌ত্রিকা সে‌টি বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করে‌ দেশবাসীকে জানি‌য়ে‌ছে। অথচ শুধু ছয় জন না গত ১৭ বছরে বাংলা‌দে‌শের একজন ডাক্তা‌রের পদ্ধ‌তি যে লক্ষাধিক মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে সেটা এই দেশের কেউই জানলো না।

এরকম কি হওয়াটা উচিৎ ছিলো?

কে মেকাপ না নিয়ে বিয়ে করল, বিয়ের আসরে কে পথ শিশুদের নিয়ে খাওয়ালো, আমি নারীবাদী না পুরুষবাদি, পরকিয়া ভালো না খারাপ, সাকিব খানের প্রেম না কাজী মারুফএর গালি, এই দেশে কে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ভক্ত আর কে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ভক্ত, সাকিব আল হাসান তার বাসার কাজের মেয়েকে দাড় করিয়ে রেখে নিজে কেন পরিবার সহ খেতে বসেছে ইত্যাদি অহেতুক বিষয় গুলোর ভিড়ে ডাঃ সায়েবার মতো যোগ্য লোকেরা অজান্তে হারিয়ে যাচ্ছে।

জাতি হিসেবে আমরা এতটা ইডিয়ট যে আমাদের ইডিয়ট স্বভাবকে টার্গেট করেই মিডিয়া গুলো সেরকম বিষয় হাইলাইট করে। বস্তুনিষ্ঠ বিষয় গুলো তো ইডিয়টরা খায় না। আর তাই তো এই দেশের প্রতিভা  গুলো দেশ ত্যাগ করে হয় বিদেশে খ্যাতি অর্জন করে না হয় এই দেশে নীরবে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে। কারন এরা ইডিয়ট হতে পারে না।

আমি বরাবরই বলে আসছি, আমাদের দেশের চিকিৎসকরা আন্তর্জাতিক মানের। এদের জ্ঞান এবং স্কিল খুবই ভালো। একটা গোষ্ঠী বাইরের দেশে রোগী পাঠানোর দালালি করে এবং সেজন্য আমাদের বিরুদ্ধে নেগেটিভ কথা প্রচার করে জনসাধারনকে আমাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে দেয়।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

বাংলাদেশের সরকারি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ব বিদ্যালয় গুলোতে অনেক প্রতিভা আছে। একটিবার চোখ মেলে দেখুন এই দেশে কত রত্ন আছে। মিডিয়ার বুলি শুনে আপনি অন্ধ হয়ে থাকলে এই দেশ আগাবে না।

ডাঃ সায়েবা আখতার বাংলাদেশের গর্ব।

তথ্য সংগ্রহঃ বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট থেকে।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

দুর্বলতা এবং ক্লান্ত বোধ

“আমার খুব দুর্বল লাগে”-  রোগীদের খুব কমন একটি কমপ্লেইন। চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন ব্যাপারটি শারীরিক দুর্বলতা নয় বরং ক্লান্ত বোধ করা।

মেডিকেল সাইন্সে Weakness এবং Fatigue কথাটি খুব ব্যবহৃত হয়। Weakness শব্দটির বাংলা অর্থ দুর্বলতা হলেও Fatigue-এর অর্থ কিন্তু দুর্বলতা নয় বরং এটির অর্থ ক্লান্ত। আমাদের দেশে Weakness এবং Fatigue শব্দ দুটি দুর্বলতা হিসেবেই রোগীরা ব্যবহার করে থাকেন।

আপনি যদি শারীরিক দুর্বলতার কথা বলেন তাহলে আপনি বোঝচ্ছেন, আপনার পেশী গুলোর কর্মক্ষমতায় সমস্যা আছে এবং কাজ করতে আপনি আপনার পেশী গুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করছেন। মূলত স্নায়ুতে সমস্যা, থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ, শ্বাসনালী ও মূত্রের ইনফেকশন এবং শরীরের পটাশিয়ামের পরিমান কমে গেলে পেশী তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা অনেকাংশে হারিয়ে ফেলতে থাকে এবং একজন মানুষ দুর্বল বোধ করতে থাকে।

অতঃপর আপনার কথিত দুর্বলতা কিন্তু সেই দুর্বলতা নয়। আপনি ক্লান্ত বোধ করছেন এবং বেশীর রোগী এই কমপ্লেইন নিয়েই আসেন যেটার সঠিক অর্থের প্রয়োগ অনেকেই করেন না।

একজন রোগী নিম্নলিখিত কমন কারন গুলোর জন্য ক্লান্ত বোধ করতে পারেনঃ

১। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কাজ করা।

২। রক্তশূন্যতা।

৪। ডায়াবেটিস।

৫। ইসকেমিক হার্ট ডিসিস অর্থাৎ করোনারি আর্টারিতে রক্ত চলাচল ব্যহত হলে অর্থাৎ ব্লক থাকলে।

৬। থাইরয়েড গ্রন্থি, যকৃৎ এবং কিডনিতে সমস্যা থাকলে।

৭। অপর্যাপ্ত ঘুম।

৮। দুশ্চিন্তা।

৯। অবসাদ গ্রস্থতা।

১০। নিয়মিত শরীর চর্চার অভাব।

১১। অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপান।

১২। বিভিন্ন  ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

আপনি যদি দুই সপ্তাহের বেশী সময় দুর্বল কিংবা ক্লান্ত বোধ করতে থাকেন তাহলে একজন বিএমডিসি রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বলে রাখা ভালো, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তারা অনেক টাকার টেস্ট দেন কমিশন খাবার জন্য। এই ধারনা ভুল। একটি রোগী দুর্বলতা এবং ক্লান্তি বোধ করলে কতগুলো রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে সেটা নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছেন।

আপনাদের অভিযোগ যেহেতু অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় নিয়ে সেহেতু কম খরচে পরীক্ষানিরীক্ষা করানোর জন্য এই দেশে বিএসএমএমইউ এবং সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলো আছে সেখানে যেতে পারেন।

অতঃপর অভিযোগ করার পূর্বে একটু চিন্তা করা উচিৎ।

আবারও, একটু দুর্বল কিংবা ক্লান্ত লাগলে, না বুঝে না শুনে পাশের ফার্মেসী থেকে মালটিভিটামিন কিনে খাওয়া শুরু করবেন না। এরকম করলে আপনার সমস্যা ধরা পড়বে না কারন আপনি চিকিৎসকের কাছে যাবেন না। আর ভিটামিন হক আর মেডিসিন হক, একজন রেজিসটারড চিকিৎসকএর পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা উচিৎ।

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

বিএমডিসি থেকে রেজিস্টার্ড প্রাপ্ত একজন চিকিৎসকের উপর আস্থা রাখুন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার