সর্বাঙ্গে ব্যথা

open-uri20120831-9415-wgsvgm

সমগ্র শরীরে ব্যথার খুব কম কিছু কারনঃ

১। অতিরিক্ত স্ট্রেস এবং দুশ্চিন্তা।

২। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।

৩। শরীরে পানি শূন্যতা।

৪। ঠাণ্ডা জ্বর অথবা ফ্লু।

৫। রক্তশূন্যতা

৬। ভিটামিন ডি এর অভাব।

৭। ইনফেকসাস মনোনিউক্লিওসিস নামক একটি সংক্রামক রোগ।

৮। নিউমোনিয়া।

৯। ফাইব্রোমাইয়ালজিয়া নামক একটি সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডার।

১০। ক্রনিক  ফ্যাটিগ সিনড্রোম অথবা ক্লন্তিজনিত সমস্যা।

১১। অার্থাট্রাইটিস।

১২। লুপাস ডিসিস।

১৩। লাইম ডিসিস।

১৪। হিস্টোপ্লাসমোসিস।

১৫। মাল্টিপেল স্ক্লেরোসিস।

১ থেকে ১০ পর্যন্ত যে কারন গুলো বলা হয়েছে, আমার মনে হয়, অনেকেই সেগুলোর কোন না কোন একটি কারনের জন্য সমগ্র শরীরে ব্যথা অনুভব করেছেন। বিশেষ করে অনেকেই স্ট্রেস, অপর্যাপ্ত ঘুম,   ফাইব্রোমাইয়ালজিয়া, রক্তশূন্যতা কিংবা ভিটামিন ডি এর অভাবে এই দেশের বেশীরভাগ লোক সর্বাঙ্গে  ব্যথা অনুভব করেই থাকেন।

অনেকেই সর্বাঙ্গের ব্যথাকে গুরুত্ব দেন না এবং কোন চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে পরিচিত নন-মেডিকেল পার্সনদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেন কিন্তু একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞর কাছে যাবার প্রয়োজন অনুভব করেন না।

আপনি নিজের শরীরকে অবহেলা করলেন এবং এমনও তো হতে পারে আপনি ১১ থেকে ১৫ পর্যন্ত কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আবার, উল্লেখিত ১ থেকে ১০ পর্যন্ত কারন গুলো একদমই অবহেলা কারার মতো নয়। বিশেষ করে, ফাইব্রোমাইয়ালজিয়া,  মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা এবং ক্লান্তি জনিত কারন গুলোকে একটু ও অবহেলা করবেন না। এগুলো পুষে রাখলে বড় ধরনের সেগুলো কোন মানসিক ব্যধি রূপে আবির্ভূত হতে পারে।

শরীরের কোন লক্ষনকে হালকা ভাবে নিবেন না।

বিএমডিসি থেকে রেজিস্টার্ড প্রাপ্ত একজন চিকিৎসকের সাথে সর্বদা যোগাযোগ করবেন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

মুক্তামনির অপারেশনের প্রাথমিক ধাপ সফল ভাবে সম্পন্ন

full_1471523268_1501921598

সাতক্ষীরার ১১ বছরের মেয়ে মুক্তামনি বিরল লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হন। এটি একটি জন্মগত রোগ (কনজিনেটাল ডিজিস)। এই রোগের বিশেষত্ব হচ্ছে জন্মের পরপরই কিছু ক্ষেত্রে এই এর প্রকাশ কারও ক্ষেত্রে পায়, কারও ক্ষেত্রে পায় না। মুক্তামনিরটা প্রকাশ পেয়েছে তার জন্মের দেড় বছর পর।

আজ সকাল পৌনে নয়টার দিকে মুক্তামনির ডান হাতের অপারেশন হয়। অক্ষত রেখেই মুক্তামণির ডান হাত থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। জ্ঞান ফিরে এসেছে মুক্তামণির। তাঁকে হাসপাতালের আইসিইতে রাখা হয়েছে।

মিডিয়াকে ব্রিফিংয়ের সময় মেডিকেল টিমের ২০ থেকে ২২ জন উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষ করে বার্ন ইউনিটের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবুল কালাম অস্ত্রোপচারের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, ডান হাত অক্ষত রাখা হয়েছে। অস্ত্রোপচার প্রাথমিকভাবে সফল। তবে তাঁকে ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না। কারণ, তার ফুসফুসের সমস্যাসহ অন্যান্য জটিলতা রয়েছে। টিউমার শরীরের অনেক জায়গায় ছড়িয়েছিল। হাতের অংশটুকু বেশি খারাপ অবস্থায় ছিল। ওটা আজ অপসারণ করা হয়েছে। অপসারিত টিউমারটির ওজন প্রায় তিন কেজি।

মুক্তামণির শরীর থেকে সব টিউমার সরাতে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি অস্ত্রোপচার লাগবে বলে জানান অধ্যাপক আবুল কালাম। ওর শারীরিক অবস্থা বুঝে পরবর্তী অস্ত্রোপচারের সময় ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে মুক্তামণিকে। যেদিন ও বাড়িতে ফিরতে পারবে, সেদিন আমরা বলতে পারব ও ঝুঁকিমুক্ত”।

ব্রিফিংয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, এই সফলতা সম্মিলিত উদ্যোগ। সবার প্রচেষ্টার ফলে আজকে প্রাথমিকভাবে সফল হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, মুক্তামনির রোগটি নিয়ে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বোর্ড মিটিং করেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা এবং তারা পরবর্তীতে জানিয়েছিল এ রোগটি ভালো হবার নয় ও সেটি অস্ত্রোপচার করার মতোও নয়। এ পর্যবেক্ষণ জানার পর গত ০২ আগস্ট ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সভায় ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সকল ধরনের সর্তকতা অবলম্বন করে বায়োপসি করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

এত জটিল একটি অপারেশনের প্রাথমিক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশী চিকিৎসকদের অভিনন্দন। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। আশা করি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিকেল টিম মুক্তামনিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

 

 

বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বলকারী চিকিৎসকের নাম এ আর এন এম হাসিবুল হক লিমন

20728109_1604640039586783_9020938485098517811_n

ডা. এ আর এন এম হাসিবুল হক লিমন।  পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর গ্রামে। বাবা প্রকৌশলী নুরুল হক ও মা ইসমাত আরা জাহান। তাঁরা ঢাকার পূর্ব কাফরুলে থাকেন। লিমন ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। অস্ট্রেলিয়ার রয়াল অস্ট্রেলেশিয়ান কলেজ অব ফিজিশিয়ান থেকে এফআরএসিপি পাস করেন ২০১২ সালে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ব্রোকেন হিল হেলথ সার্ভিসে কনসালট্যান্ট চিকিৎসক ও জেরিয়াট্রিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন তিনি। ২০০৭ সালে তিনি ক্যানবেরা হাসপাতালে শ্রেষ্ঠ রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার হিসেবেও পুরস্কৃত হয়েছিলেন। তাঁর সহধর্মিণী ডা. শাতিলা জাফরীন একই হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

গত ৪ আগস্ট শুক্রবার চিকিৎসা সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য আবারও পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের পশ্চিম স্থানীয় জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যসেবায় শ্রেষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

ডাঃ লিমন কি এই দেশে তার যোগ্য সম্মান পেত? আমার মনে হয় না। কোন উপজেলায় পোস্টিং হলে হয় মার খেত না হয় বদলি এবং কুচক্রিদের চক্করে পড়ে বিলীন হয়ে যেত। একটু পূর্বে আমি বলেছিলাম এই দেশে ভালো চিকিৎসকদের অভাব নেই কিন্তু তাদেরকে সম্মান দেবার লোকের অভাব।

নীল ক্ষেত কিংবা আজিজের মেডিকেল বুক স্টোর গুলোতে দাঁড়ালে দেখা যায়, ছাত্রছাত্রীরা এমডি/এফসিপিএস-এর বই আর কিনছে না। বরং তারা এমআরসিপি, এএমসি এবং ইউএসএমইলি-এর বই বেশী কিনছে। তাদের ধারনা, এই দেশে তারা সম্মনা পাবে না যেটা বিদেশে পাবে। তারা তাদের কাজের স্বীকৃতি চায়। পড়ে, পড়ে মার খেতে চায় না। কুচক্রিদের খপ্পরেও পড়তে চায় না।

আমাদের প্রতিভা গুলো বিদেশে চলে যাচ্ছে।

এটা ভালো লক্ষন নয়।

এই ব্যর্থতা আমাদের সকলের।

 

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

ডাঃ সায়েবা আখতারঃ বাংলাদেশের গর্ব

1502431572কেনিয়ার গণমাধ্যম তাদের গাইনি এবং অবস বিশেষজ্ঞ অ্যানি মুঞ্জেলা নিয়ে নিউজ করেছে বলে বিবিসি সেটা হাইলাইট করতে বাদ্ধ হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যম ভিনদেশের একটি হাতিকে অনেক গুরুত্ব সহকারে খবরের বিষয় বস্তু  করলেও তাদের নিজস্ব প্রতিভাকে বেমালুম ভুলে যায় এবং প্রতিভাটি যদি চিকিৎসক সমাজের হয় তাহলে তো তাকে প্রচার করার তাগিদটা এই দেশের মিডিয়ার একদমই থাকে না।

ভাগ্য ভালো এটা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। তা না হলে আমরা হয়ত অধ্যাপিকা সায়েবা আখতারকে চিনতামই না। আমার মেডিকেল পেইজে সেই চার তারিখ থেকে ম্যাডাম সায়েবাকে নিয়ে পোস্ট দিয়েই যাচ্ছি কিন্তু আমার টাইমলাইনে একজন কি দুজন বাদে আর কোন নন-মেডিকেল কোন পার্সনই ম্যাডামকে নিয়ে পোস্ট দেননি। কিন্তু চিকিৎসকদের সমালোচনা করার বেলায় উনারা সবার আগে গলা বাড়িয়ে দেন। আর হ্যাঁ, কার্ডিয়াক স্টেন্ট, চিকিৎসকদের অবহেলা, চিকিৎসকদের ব্যবহার নিয়ে ঘেউ, ঘেউ করা লোক গুলো চুপ।

আজকে ম্যাডামকে নিয়ে একটু ডিটেইলসে পোস্ট দেবো।

৩০-৪০ বছর আগেও বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল অনেক বেশি। এর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল প্রসব পরবর্তী রক্তপাত।

ডা: না‌জিরুম মু‌বিন লি‌খে‌ছেন,  চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় পোস্ট পারটাম হেমোরেজ বা পিপিএইচ। পিপিএইচের চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল বেশ ব্যয়বহুল। বাংলাদেশসহ অন্যান্য অনুন্নত দেশের জনগণের জন্য যা বহন করা সম্ভব ছিল না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যেত মায়েরা সন্তান জন্মদানের সময় মারা যেত। মৃত মায়ের সন্তানরাও বেশিদিন বাঁচত না। কখনো কখনো মাকে বাঁচাতে গিয়ে জরায়ু কেটে ফেলে দিতে হতো। সেক্ষেত্রে ওই মহিলা চিরদিনের জন্য মা হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো।

ভয়াবহ এই চিত্রটি ২০০০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. সায়েবা আকতার ম্যাডামকে খুব ভাবিয়েছিল। ম্যাডাম পিপিএইচের জন্য স্বল্প খরচে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজছিলেন। রক্তপাত বন্ধের প্রধান উপায় হলো প্রেশার বা চাপ দেয়া। কোন ভাবে জরায়ুর ভেতরে কোন কিছু দিয়ে চাপ দিলে হয়তোবা রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু চাইলেই তো যেকোন বস্তু মানবদেহের ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না। স্টেরিলিটির ব্যাপার আছে। মেডিকেল ইথিক্সের ব্যাপার আছে।

হঠাৎ ম্যাডামের মনে হলো বাচ্চারা তো ফ্যামিলি প্ল্যানিং এর ফ্রি কনডম দিয়ে বেলুন বানিয়ে খেলে। কনডম একটা এফডিএ অনুমোদিত মেডিকেল ডিভাইস। ম্যাডাম কনডমের ভিতরে পানি ঢুকিয়ে এর স্থিতিস্থাপকতা পরীক্ষা করলেন। এটা জরায়ুর ভেতরে প্রবেশ করিয়ে যদি পানি দেয়া যায় তাহলে একসময় সেটা জরায়ুর দেয়ালে চাপ দিবে ফলে রক্তপাত বন্ধ হবে।

ম্যাডাম পরের দিন সকালে অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে দেখেন একজন মহিলাকে টোটাল হিস্টেরেকটমির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। অর্থাৎ তার জরায়ু কেটে ফেলে দেয়া হবে। কারণ তার প্রসব পরবর্তী রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। ম্যাডাম তখন প্রথমবারের মতো কনডম টেম্পোনেড ব্যবহার করলেন। আশ্চর্যজনকভাবে ১৫ মিনিটের মধ্যেই রক্তপাত বন্ধ হয়েছিল। রোগিটি তার জরায়ুসহ সুস্থভাবে বাড়ি ফিরেছিল।

২০০১-২০০২ সাল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অধ্যাপক ডা. সায়েবা আকতারের নেতৃত্বে ২৩ জন রোগিকে এই চিকিৎসা দেয়া হয় এবং তাদের প্রত্যেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন।

২০০৩ সালে ম্যাডামের এই আবিষ্কার ও গবেষণা কর্মটি মেডস্কেপ মেডিকেল জার্নালে“Use of condom in the control of massive postpartum hemorrhage. Medscape General Medicine 2003; 5(3): 38. শিরোনামে প্রথম পাবলিশ হয়। পরবর্তীতে এটি অরিজিনাল রিসার্চ পেপার হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব গাইনি অ্যান্ড অবসেও পাবলিশ হয়।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে রিভিউ আর্টিকেল হিসেবে পাবলিশ হয়। বিশ্বজুড়ে এটি সায়েবা’স মেথড হিসেবে পরিচিতি পায়।

আন্তর্জাতিক জার্নালে পাবলিশ হওয়ার পর বিভিন্ন দেশে ম্যাডামকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় সায়েবা’স মেথড সম্পর্কে তাদের দেশের ডাক্তারদের প্রশিক্ষিত করার জন্য। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ম্যাডামের এই মেথড নিয়ে এফসিপিএস ডিজার্টেশন, এমএস থিসিস, পিএইচডি থিসিস হয়েছে। ম্যাডামকে রয়্যাল কলেজ অব অবস অ্যান্ড গাইনোকলজিস্ট থেকে অনারারি ফেলোশিপও দেয়া হয়েছে।

অথচ গত ২ তারিখ বিবিসি একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করে। সেখানে দেখানো হয় অ্যানি মুঞ্জেলা নামে কেনিয়ার একজন মিডওয়াইফ কনডম দিয়ে প্রসব পরবর্তী রক্তপাত বন্ধ করছেন। তিনি তার ক্লিনিকে এই পদ্ধতিতে ৬ জন মায়ের জীবন বাঁচিয়েছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে অনুন্নত দেশগুলোর আরো অনেক মায়ের জীবন বাঁচবে বলে আশা করা হয়। বাংলা‌দে‌শের ক‌য়েক‌টি প‌ত্রিকা সে‌টি বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করে‌ দেশবাসীকে জানি‌য়ে‌ছে। অথচ শুধু ছয় জন না গত ১৭ বছরে বাংলা‌দে‌শের একজন ডাক্তা‌রের পদ্ধ‌তি যে লক্ষাধিক মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে সেটা এই দেশের কেউই জানলো না।

এরকম কি হওয়াটা উচিৎ ছিলো?

কে মেকাপ না নিয়ে বিয়ে করল, বিয়ের আসরে কে পথ শিশুদের নিয়ে খাওয়ালো, আমি নারীবাদী না পুরুষবাদি, পরকিয়া ভালো না খারাপ, সাকিব খানের প্রেম না কাজী মারুফএর গালি, এই দেশে কে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ভক্ত আর কে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ভক্ত, সাকিব আল হাসান তার বাসার কাজের মেয়েকে দাড় করিয়ে রেখে নিজে কেন পরিবার সহ খেতে বসেছে ইত্যাদি অহেতুক বিষয় গুলোর ভিড়ে ডাঃ সায়েবার মতো যোগ্য লোকেরা অজান্তে হারিয়ে যাচ্ছে।

জাতি হিসেবে আমরা এতটা ইডিয়ট যে আমাদের ইডিয়ট স্বভাবকে টার্গেট করেই মিডিয়া গুলো সেরকম বিষয় হাইলাইট করে। বস্তুনিষ্ঠ বিষয় গুলো তো ইডিয়টরা খায় না। আর তাই তো এই দেশের প্রতিভা  গুলো দেশ ত্যাগ করে হয় বিদেশে খ্যাতি অর্জন করে না হয় এই দেশে নীরবে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে। কারন এরা ইডিয়ট হতে পারে না।

আমি বরাবরই বলে আসছি, আমাদের দেশের চিকিৎসকরা আন্তর্জাতিক মানের। এদের জ্ঞান এবং স্কিল খুবই ভালো। একটা গোষ্ঠী বাইরের দেশে রোগী পাঠানোর দালালি করে এবং সেজন্য আমাদের বিরুদ্ধে নেগেটিভ কথা প্রচার করে জনসাধারনকে আমাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে দেয়।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

বাংলাদেশের সরকারি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ব বিদ্যালয় গুলোতে অনেক প্রতিভা আছে। একটিবার চোখ মেলে দেখুন এই দেশে কত রত্ন আছে। মিডিয়ার বুলি শুনে আপনি অন্ধ হয়ে থাকলে এই দেশ আগাবে না।

ডাঃ সায়েবা আখতার বাংলাদেশের গর্ব।

তথ্য সংগ্রহঃ বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট থেকে।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

দুর্বলতা এবং ক্লান্ত বোধ

“আমার খুব দুর্বল লাগে”-  রোগীদের খুব কমন একটি কমপ্লেইন। চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন ব্যাপারটি শারীরিক দুর্বলতা নয় বরং ক্লান্ত বোধ করা।

মেডিকেল সাইন্সে Weakness এবং Fatigue কথাটি খুব ব্যবহৃত হয়। Weakness শব্দটির বাংলা অর্থ দুর্বলতা হলেও Fatigue-এর অর্থ কিন্তু দুর্বলতা নয় বরং এটির অর্থ ক্লান্ত। আমাদের দেশে Weakness এবং Fatigue শব্দ দুটি দুর্বলতা হিসেবেই রোগীরা ব্যবহার করে থাকেন।

আপনি যদি শারীরিক দুর্বলতার কথা বলেন তাহলে আপনি বোঝচ্ছেন, আপনার পেশী গুলোর কর্মক্ষমতায় সমস্যা আছে এবং কাজ করতে আপনি আপনার পেশী গুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করছেন। মূলত স্নায়ুতে সমস্যা, থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ, শ্বাসনালী ও মূত্রের ইনফেকশন এবং শরীরের পটাশিয়ামের পরিমান কমে গেলে পেশী তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা অনেকাংশে হারিয়ে ফেলতে থাকে এবং একজন মানুষ দুর্বল বোধ করতে থাকে।

অতঃপর আপনার কথিত দুর্বলতা কিন্তু সেই দুর্বলতা নয়। আপনি ক্লান্ত বোধ করছেন এবং বেশীর রোগী এই কমপ্লেইন নিয়েই আসেন যেটার সঠিক অর্থের প্রয়োগ অনেকেই করেন না।

একজন রোগী নিম্নলিখিত কমন কারন গুলোর জন্য ক্লান্ত বোধ করতে পারেনঃ

১। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কাজ করা।

২। রক্তশূন্যতা।

৪। ডায়াবেটিস।

৫। ইসকেমিক হার্ট ডিসিস অর্থাৎ করোনারি আর্টারিতে রক্ত চলাচল ব্যহত হলে অর্থাৎ ব্লক থাকলে।

৬। থাইরয়েড গ্রন্থি, যকৃৎ এবং কিডনিতে সমস্যা থাকলে।

৭। অপর্যাপ্ত ঘুম।

৮। দুশ্চিন্তা।

৯। অবসাদ গ্রস্থতা।

১০। নিয়মিত শরীর চর্চার অভাব।

১১। অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপান।

১২। বিভিন্ন  ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

আপনি যদি দুই সপ্তাহের বেশী সময় দুর্বল কিংবা ক্লান্ত বোধ করতে থাকেন তাহলে একজন বিএমডিসি রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বলে রাখা ভালো, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তারা অনেক টাকার টেস্ট দেন কমিশন খাবার জন্য। এই ধারনা ভুল। একটি রোগী দুর্বলতা এবং ক্লান্তি বোধ করলে কতগুলো রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে সেটা নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছেন।

আপনাদের অভিযোগ যেহেতু অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় নিয়ে সেহেতু কম খরচে পরীক্ষানিরীক্ষা করানোর জন্য এই দেশে বিএসএমএমইউ এবং সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গুলো আছে সেখানে যেতে পারেন।

অতঃপর অভিযোগ করার পূর্বে একটু চিন্তা করা উচিৎ।

আবারও, একটু দুর্বল কিংবা ক্লান্ত লাগলে, না বুঝে না শুনে পাশের ফার্মেসী থেকে মালটিভিটামিন কিনে খাওয়া শুরু করবেন না। এরকম করলে আপনার সমস্যা ধরা পড়বে না কারন আপনি চিকিৎসকের কাছে যাবেন না। আর ভিটামিন হক আর মেডিসিন হক, একজন রেজিসটারড চিকিৎসকএর পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা উচিৎ।

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

বিএমডিসি থেকে রেজিস্টার্ড প্রাপ্ত একজন চিকিৎসকের উপর আস্থা রাখুন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

হার্ট ফেইলরের চিকিৎসায় কার্ডিওট্রফিন ওয়ান?

কার্ডিওট্রফিন ওয়ান একটি সাইটোকাইন। এই কার্ডিওট্রফিন ওয়ান হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন অসুখ যেমনঃ উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ভাল্বের সমস্যা এবং হার্ট ফেইলরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। তাহলে এই সাইটোকাইনটি ভালো নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অটোয়া হার্ট ইন্সটিটিউট এবং কার্লেটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই কার্ডিওট্রফিন ওয়ানের ভালো গুণাবলীর আবিস্কার করেছেন।

বিশেষ করে হার্ট ফেইলরের রোগীদের ক্ষেত্রে কার্ডিওট্রফিন ওয়ানের পজেটিভ ভূমিকা আছে।

হার্ট ফেইলর হলে হৃৎপিণ্ডের বেশীরভাগ কোষ মরে যায় আর তাই শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা লোপ পায়। মৃত কোষ গুলোর অকার্যকর ভূমিকাকে সামাল দিতে জীবিত কোষ গুলো বেশী, বেশী রক্ত পাম্প করতে থাকে এবং এর ফলে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ গুলো বড় হয়ে যায় ও রক্ত প্রবাহের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়।

ল্যাবে ইঁদুরের উপর গবেষনায় দেখা যাচ্ছে, কার্ডিওট্রফিন ওয়ান দিয়ে চিকিৎসার ফলে হৃৎপিণ্ডে নতুন কোষ গড়ে উঠে এবং সেই সাথে নব্য শিরা-উপশিরা ও গড়ে উঠে। কার্ডিওট্রফিন ওয়ানের একটি গুন হচ্ছে এটি পেশীর হাইপারট্রফিক গ্রোথ অথবা অতিবৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করে এবং ইন্টারলিউকাইন-৬ ফ্যামিলির এই সাইটোকাইনটির এই গুণাবলীর জন্যই হার্টের রোগ গুলো হয়। তবে এখন, কার্ডিওট্রফিন ওয়ানের এই গুনাবলীই হার্ট ফেইলরে অকেজো হতে থাকা হৃৎপিণ্ডকে পুরোটা না হলেও, একটি স্বাভাবিক রেঞ্জে কাজ করার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

ডাঃ মেগেনেনি এবং টিমের মতে,  কার্ডিওট্রফিন ওয়ান দিয়ে চিকিৎসার ফলেঃ

১। হৃৎপিণ্ডের কোষ গুলো আরও লম্বা এবং সুস্থ ক্যালিবারের হয় যেটি স্বাভাবিকভাবে পাম্প করতে সহায়তা করে।

২। নতুন পেশীকোষ গঠনের সাথে, সাথে নতুন শিরা উপশিরার জন্ম হয় যেটা রক্ত প্রবাহে সাহায্য করে।

৩।  হৃৎপিণ্ডের বাম দিকে হার্ট অ্যাটাকের জন্য যে কোষ গুলো মারা গিয়ে হার্ট ফেইলর হতে পারে এবং ডান দিকে ফুসফুসে পানি জমে পালমনারি হাইপারটেনশন হয়ে যে হার্ট ফেইলর হয়,  কার্ডিওট্রফিন ওয়ান দুটো দিকেই সামাল দিয়ে হৃৎপিণ্ডের পাম্প করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

৪।   কার্ডিওট্রফিন ওয়ানের অ্যাপোপটপিক পাথওয়ে কিংবা কোষ মরে যাবার একটি মেকানিসম ফলো করলে ও সেটি নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা রাখে যা অন্য সাটোকাইন গুলোর থাকে না।

পুরো ব্যাপারটি এখনও গবেষণার মধ্যে আছে তবে এখন পর্যন্ত যা ফলাফল সেটি আশাপ্রদ। এই গবেষণা সফল হলে হার্ট ফেইলরের রোগীদের আরও ভালো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

 

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

 

ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্ক

কোন রোগী যদি আমাদেরকে বলে তার ডায়াবেটিস আছে তাহলে সাথে, সাথে আমরা জিজ্ঞেস করি তার উচ্চ রক্তচাপ আছে কিনা। প্রতি তিনজন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপ থাকার কথা বলেন। এমন অনেক রোগী আছে যাদের কখনও উচ্চ রক্তচাপের হিস্টোরি পাওয়া যায় না কিন্তু ডায়াবেটিস হবার সাথে, সাথেই উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়।
 
কেন?
 
কোন রোগীর ডায়াবেটিস হলে হাই ব্লাড সুগার তার শরীরের কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম অর্থাৎ রক্তের শিরা-উপশিরাতে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আনেঃ
 
১। হাই ব্লাড সুগার রক্তের শিরার সংকুচিত করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। রক্তের শিরা যদি নিয়ম মাফিক সংকুচিত না হতে পারে তাহলে সেটি স্ফীত হতে থাকবে এবং রক্তের চাপ বাড়িয়ে দেবে।
 
২। হাই ব্লাড সুগার কিডনীর গঠনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এখন কিডনী যদি তার ছাঁকার কাজটি ঠিক মতো না করতে পারে তাহলে কিডনীতে সরবরাহকারী শিরা গুলোর উপর চাপ পড়ে এবং এই শিরা গুলো বিভিন্ন উপশিরার মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গে সরবরাহকারী শিরার সাথে জড়িত। এখন, একটি শিরার উপর চাপ পড়লে বাকি গুলোতে চাপ পড়বে এবং ধীরে, ধীরে উচ্চ রক্তচাপ ডেভেলপ করবে।
 
ডায়াবেটিস হলেই নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করা উচিৎ এবং সেটি অবশ্যই একজন এমবিবিএস ডাক্তার দিয়ে পরিমাপ বাঞ্ছনিয়। কখনও ডিজিটাল মেশিন দিয়ে রক্তচাপ পরিমাপ করা উচিৎ নয় কারন এটাতে রিডিং ভুল আসে।
ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।
 
বিএমডিসির রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদের উপর আস্থা রাখুন।
ধন্যবাদ
ফয়সাল সিজার

মেহেল্লাসা পারভি নামের চিকিৎসক এবং ক্রিকেটার

১৮৪৮ সালে উপমহাদেশের পারসি কমিউনিটি ইউরোপিয়ান ক্লাবের একটু দূরে এসপানালডি ময়দানে নিজদের ক্রিকেট ক্লাব গঠন করে। ক্লাব গঠনটি অনেকটা হুজুগের বশেই হয়েছিলো এবং তাই ইউরোপিয়ান ক্লাবের সাথে মুখোমুখি হবার আগেই তারা হেরে বসে থাকত। কিন্তু ১৮৭৭ সালে তারা যখন ইউরোপিয়ান ক্লাবকে হারায় তখন পারসিরা ক্রিকেটকে আরও বেশী সিরিয়াসলি নিতে শুরু করে।

নয় বছর অপেক্ষার পর, ১৮৮৬ সালে, তারা ইংল্যান্ডে ট্যুর করে। এই ট্যুরটি ছিলো অনেকটা এক্সপেরিমেন্টাল বেসিসে। পারসিরা মোট ২৮টি ম্যাচ খেলে এবং জয় পায় মাত্র একটিতে।

১৮৮৮ সালে তারা আবার ইংল্যান্ডে ট্যুর করে। ফলাফলঃ ৮টি জয়, ১১টি হার এবং ১২টি ড্র। এই অসাধারন ইম্প্রভমেন্টের পেছনে মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন মেহেল্লাসা পাভরি নামের একজন ফাস্ট বোলার। ছয় ফুট উচ্চতার পাভরি পেশায় ছিলেন একজন চিকিৎসক কিন্তু ক্রিকেটের উপর তার ছিলো বেজায় নেশা। তার বলের গতি ছিলো দমকা হাওয়ার ন্যায় এবং স্ট্যাম্প উপরে ফেলতে উনি বেশ পছন্দ করতেন। সেই ট্যুরে পাভরি ১১.৬৬ গড়ে ১৭০ উইকেট পেয়েছিলেন।

পারসিরা ১৮৯০ সালে আবারও ইংল্যান্ড ট্যুর করে। যই এফ ভারননের ইংল্যান্ড দলের খেলা দেখতে ১২০০০ দর্শকের সমাগম হয়েছিলো। সেই দর্শকদের সামনে পাভরি তার পেস এবং কন্ট্রোল দিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডারকে কুপোকাত করে দিয়েছিলেন। উনি ৩৪ রানের খরচায় উইকেট নেন ৭ টি।

১৮৯২ সালের ট্যুরে, পারভির দশ উইকেট, লর্ড হকের ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে ১০৯ রানের এক অবিশ্বাস্য জয় এনে দেয়। পারভি যেন এক জলজ্যান্ত ত্রাসের নাম। উপমহাদেশ থেকে এরকম ভাবে কেউ রাউন্ড দ্যা আরম বোলিং করে তার পেস এবং কন্ট্রোলের জোরে ব্যাটিং অর্ডারকে গুরিয়ে দিতে পারে সেটা অনেকের কাছেই তখন বিশ্বাস করার মতো ছিলো না।

বিশ্ব ক্রিকেটের আকাশে রয়েল কলেজ অফ ফিজিসিয়ান থেকে পাশ করা চিকিৎসক ডাব্লিউ জি গ্রেসে নামক প্রতিভাটি উজ্জ্বল সূর্যের ন্যায় জ্বলজ্বল করছে। সেই উজ্জ্বল সূর্যের ঝলকানিতে আরও একজন চিকিৎসকের ক্রিকেট প্রতিভা ঢাকা পড়ে গেলেও তার প্রতিভা উপমহাদেশে ক্রিকেটের প্রসারে ব্যাপক ভুমিকা পালন করে আসছিলো।

ক্রিকেট খেলাটিতে চিকিৎসকের অবদান অনেক।

অস্বীকার করতে চাইলেও উপায় নেই কারন ক্রিকেটের ইতিহাস মিথের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়নি যে।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

মাত্রাতিরিক্ত রাত জাগার সাথে মানুষের শরীরে ইনফেকশন হওয়ার যোগ সূত্র

images

ইদানিং বাংলাদেশের ছেলে এবং মেয়রা শরীরকে ‘ফিট’ রাখতে জিমে যাচ্ছে। কিন্তু জিমে যাওয়া সত্ত্বেও এই যুগের তরুন এবং তরুণীরা ঘনঘন রোগাক্রান্ত হচ্ছেন। বহির্বিভাগে সুঠামদেহী ছেলেদের ঘনঘন চিকিৎসার জন্য আসতে দেখা যায়।

মূলত ফ্লু, জ্বর, কাশি যেটার কফ হলদে রঙের, সাইনাসের সমস্যা; যাদেরকে সিম্পটোমেটিক চিকিৎসা দিয়ে নাক, কান এবং গলা বিভাগে রেফার করা হয়, কারবাংকেল, সেলুলাইটিস ইত্যাদি চর্ম রোগ নিয়ে আমাদের কাছে আসছেন।

এসব তরুণরা বারবার কেন এই ধরনের ইনফেকশনে আক্রান্ত হচ্ছেন কিংবা সেরে যাওয়া ইনফেকশন গুলো আবার কেন এদেরকে আক্রান্ত করছে?

জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলার অভাব এবং স্বাস্থ্য সম্মত খাবার না খাওয়াটা একটি বড় কারন।

এদের জীবনযাত্রার কথা জিজ্ঞেস করলেই বেশীরভাগ তরুন এবং তরুণীরা আমাকে  মাত্রাতিরিক্ত রাত জাগার অভ্যাসের কথাটি বলেছেন। রাত জাগার কারন হিসেবে অনেকে পড়ালেখার কথাটি আনলেও এই যুগের ছেলেমেয়েরা কেন বেশী রাত জাগে সেটা অনেকেই বুঝতে পারবেন।

মাত্রাতিরিক্ত রাত জাগার সাথে মানুষের শরীরে ইনফেকশন হওয়ার একটি যোগ সূত্র আছে।

আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী সিস্টেমটি একধরনের প্রোটিন তৈরি করে যার নাম সাইটোকাইনস। এই সাইটোকাইনস, ঘুমানোর সময়, আমাদের শরীরকে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা করে। এটার জন্য অবশ্যই ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম খুবই জরুরী।

এখন কেউ যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমিয়ে রাত জেগে থাকে তাহলে আমাদের শরীরে সাইটোকাইনস তৈরি ব্যহত হবে। সাইটোকাইনস তৈরি না হলে স্বাভাবিকভাবে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ইনফেকশন জেঁকে ধরবে।

অহেতুক রাত জাগার অভ্যাসটি শুধু তরুন সমাজ নয় মধ্য বয়স্ক থেকে বয়স্ক মানুষদের জন্য ও ক্ষতিকারক। যারা টিভি চ্যানেল গুলোতে রাত জেগে টকশো এবং গান করছেন তাদেরও ব্যাপারটি মাথায় রাখা উচিৎ।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার

বুক ধড়ফড় করলে রক্তের হিমোগ্লোবিন এবং থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষা করার পরামর্শ কেন দেওয়া হয়?

download

বহির্বিভাগে অনেক রোগীই আসেন বুক ধড়ফড়ের কমপ্লেইন নিয়ে। আমরা ইসিজি করানোর সাথে, সাথে রক্তের হিমোগ্লোবিন এবং থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষাটি অ্যাডভাইস করি। বেশীরভাগ রোগী, যাদের অধিকাংশ কম বয়সী মেয়ে এবং বয়স্ক মহিলা, বুক ধড়ফড়ের জন্য হিমোগ্লোবিন এবং থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষাটি করাতে চান না। কেউ এটাকে অতিরিক্ত টেস্ট মনে করেন অথবা চিকিৎসককে কমিশনখোর মনে করেন। কিন্তু একজন চিকিৎসক না বুঝে না জেনে অযথা কোন পরীক্ষা দেন না।

হৃদরোগের অনেক লক্ষনের মধ্যে বুক ধড়ফড় করাও একটি লক্ষন তবে বুক ধড়ফড় করলেই যে কারো হৃদরোগ হয়েছে সর্বক্ষেত্রে সেটা ভাবা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য রোগের কারনেও বুক ধড়ফড় করে থাকে। রক্তের হিমোগ্লোবিন এবং থাইরয়েড হরমোনের সাথে বুক ধড়ফড়ের একটি সম্পর্ক আছে।

রক্তে হিমগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে রক্ত প্রবাহের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যহত হয়। শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত সরবরাহের জন্য হৃৎপিণ্ডকে আরও বেশী, বেশী রক্ত পাম্প করতে হয় এবং সেজন্য হৃৎপিণ্ডের গতি অর্থাৎ হার্ট রেট বেড়ে যায়। এখন হার্ট রেট যদি বেড়ে যায় তাহলে সাভাবিকভাবেই বুক ধড়ফড় করতে থাকবে। তাহলে রক্তের হিমোগ্লোবিন কি দেখা উচিৎ নয়?

কোন রোগীর রক্ত শূন্যতা থাকলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো এই হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা না করে অবহেলা করলে একটি সময়ে রোগীর অ্যানিমিক হার্ট ফেইলর ডেভেলপ করতে পারে।

ওদিকে, আমাদের শরীরের বড় বড় অর্গান গুলোর ওপর থাইরয়েড হরমোনের একটি প্রভাব আছে। এই হরমোন মুলত হার্ট রেট নিয়ন্ত্রন করে থেকে। কোন কারনে রক্তে এই হরমোনের তারতম্য ঘটলে হৃৎপিণ্ডের গতির মাত্রা হয় বেশী কমে না হয় বেড়ে যায়। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে বুক ধড়ফড় শুরু হয় কারন হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়। এই হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রন না করলে কার্ডিয়াক অ্যারেথমিয়া ডেভেলপ করে।

অতঃপর চিকিৎসকের পরামর্শকে বাঁকা চোখে দেখবেন না।

চিকিৎসকেরা যা বলেন সেটা আপনার ভালোর জন্যই বলেন।

ধন্যবাদ

ফয়সাল সিজার